নজরবন্দি ব্যুরো : পরের সপ্তাহে জয়েন্ট-এন্ট্রাস মেইন এবং নিট-ইউজি পরীক্ষা হওয়ার কথা। আর তার ঠিক আগেই সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরীক্ষা স্থগিত করার আর্জি জানালেন কেন্দ্রের কাছে। এদিন আবারও একবার তিনি এই আর্জি জানান করোনার পরিস্থিতি দেখে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে।
পরীক্ষার বিষয় সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে। গত ২১ অগস্ট কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক বেশ কিছু আবেদনের ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা ঘোষণা করে দেয়। মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানিয়ে দেন, আর পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করে ফেলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলাম। কারণ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া পড়ুয়াদের জন্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, ইউজিসির সূচি অনুযায়ী রাজ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের পড়ুয়াদের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। কোভিড-১৯ এর আবহে রাজ্যের তরফে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যার ফলে পরীক্ষার্থীদের বিপদে পড়তে হবে। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীকে টুইট করে লিখেছেন, আমি আবারও আর্জি জানাচ্ছি পরীক্ষার বিষয় পুনরায় বিবেচনা করার জন্য। মহামারীর পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জয়েন্ট এবং নিট পরীক্ষা স্থগিত করার আর্জি জানাচ্ছি। প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসেই হয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা নিট পরীক্ষা।
https://najarbandi.in/reduced-the-number-of-infected-and-deaths/আরও পড়ুনঃ দেশে কিছুটা হলেও কমলো করোনাতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
কিন্তু এবছর মহামারীর কারণে পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময় হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পরীক্ষা এপ্রিল-মে মাসের বদলে জুলাই মাসে নেওয়া হবে। সেই মতো ১৮ থেকে ২৩ জুলাই জয়েন্টের পরীক্ষা এবং ২৬ জুলাই নিট পরীক্ষার দিন ঠিক করা হয়। কিন্তু জুলাই মাসেও সংক্রমণ আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়নি। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ফের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১ থেকে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এবং ১৩ সেপ্টেম্বর নিট পরীক্ষা হবে। এর পরে ১১ জন ছাত্র ও তাঁদের অভিভাবকরা সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ জানায়, কোভিড-১৯ এর জন্য জীবন থেমে যাবে না। সংক্রমণের কারণে ছাত্রছাত্রীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে তাদের পুর একটা বছর নষ্ট হবে। সেই দিকে খেয়াল রেখে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুরক্ষাবিধি মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেই কারণে কয়েক হাজার পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। জানা যাচ্ছে, দেশে ৯৫ হাজারের বেশি সেন্টারে এই পরীক্ষা হবে।



