নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীর্ঘ বাগবিতণ্ডার পর অবশেষে জুনেই দলের সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের। দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত ডামাডোল। যার কেন্দ্রবিন্দু কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন। গত আগস্টে কংগ্রেসের ২৩ জন নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছিলেন। বারবার দাবি করেছেন, দলে ভোট করানো হোক। নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হোক। দলের অন্য একটি অংশের দাবি, পাঁচ রাজ্যে ভোটের পর হোক কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন। তুমুল বাক্বিতণ্ডা শেষে গান্ধী-ঘনিষ্ঠদের দাবিই থাকল।
আরও পড়ুনঃ রাজীব যেন ডোমজুড় থেকেই দাঁড়ায়, বুঝিয়ে দেব , হুঁশিয়ারি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের


জুনেই হবে কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচন। আজ দীর্ঘ বিতর্ক ও বৈঠকের পর কেসি বেনুগোপাল রাও জানিয়ে দিলেন জুনেই হচ্ছে নির্বাচন। সুত্রের খবর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আনন্দ শর্মা, গুলাম নবি আজাদ, পি চিদম্বরম, মুকুল ওয়াসনিকরা সত্বর ভোটের দাবি তুলেছেন। এই নেতারা আগেও কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্ব এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। এই ‘বিদ্রোহী’দের বিরুদ্ধে গান্ধী পরিবাররে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অশোক গেহলট, অমরিন্দর সিং, এ কে অ্যান্টনি, উমেন চাণ্ডিদের মতো নেতা।
এদিনের বৈঠকে তাঁরাই দাবি করেন, বাংলা, তামিলনাড়ু সহ পাঁচ রাজ্যে ভোটের পর হোক সাংগঠনিক নির্বাচন। এক নেতার কথায়, ‘কার অ্যাজেন্ডা মেনে আমরা চলছি? বিজেপি আমাদের মতো দলীয় নির্বাচন নিয়ে এত কথা বলে না। প্রথম লক্ষ্য হল রাজ্যের নির্বাচন লড়া। তার পর সাংগঠনিক নির্বাচন।’ শেষ পর্যন্ত জয়ী হন দ্বিতীয় পক্ষই। এক নেতার কথায়, কংগ্রেস সভাপতি এবং ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচনের তারিখ শিগগিরই ঘোষিত হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সোনিয়া গান্ধী। যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ২০১৯ লোকসভা হারের দায় নিয়ে পদ ছাড়েন রাহুল গান্ধী। সেই থেকে অন্তবর্তীকালীন সভাপতির পদ সামলাচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। সেই পদ না নিয়ে রাহুল চান নির্বাচন।
দীর্ঘ বাগবিতণ্ডার পর অবশেষে জুনেই দলের সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের। তবে অন্দরের ক্ষমতা রয়ে গেছে গান্ধী পরিবারের মধ্যে। সেই নিয়ে দলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে সমর্থনের অভাবে বড় পদক্ষেপ করতে পারেননি। গত আগস্টে সোনিয়াকে চিঠি লেখেন। গত মাসে কয়েক জনকে ডেকে কথা বলেন সোনিয়া। তবে দলে তাঁরা ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন। জুনের নির্বাচন কি বদলাবে তাঁদের ভাগ্য? বলবে সময়।









