নজরবন্দি ব্যুরোঃ লক্ষ্য ‘দিল্লি চলো’! আর সফল ভাবে সেই লক্ষ্য পূরণের লক্ষ্যেই সবেতন একমাস ছুটি কাটিয়ে তৃণমূলের হয়ে ফের ময়দানে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক। যদিও গত মাসেই প্রশান্ত কিশোর জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর এই কাজ করবেন না। অন্য ভাবে কাটাবেন নিজের জীবন। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আবার সরাসরি রাজনিতির ময়দানে নামার। তবে তাঁর সংস্থা থাকছে এই কাজেই। অক্লান্ত পরিশ্রমের পর একমাসের ছুটি কাটিয়ে আপাতত তাঁরা ফের ফিরছেন কাজে।
আরও পড়ুনঃ একবার টেট দিলেই বৈধতা থাকবে আজীবন, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
২১ এর নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পিছনে বড়ো অবদান ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর সংস্থা আইপ্যাকের। নির্বাচনের আগের দু’বছর ধরে ৫০০ সদস্যের টিম রাজ্যের সব প্রান্তে গিয়ে নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ করেছেন। তৃণমূল কংরেসের জয়ের পর সবেতনে একমাসের ছুটি দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।
এর আগেও একাধিক রাজ্যে ভোটে কৌশলীর কাজ করার পর বাংলায় ২১ এর বিধানসভা টার্গেট ছিল পিকের। প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিয়ে। একাধিক বার বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন বিজেপি দুই অঙ্কের গন্ডি পেরোলেই নিজের কাজ ছেড়েদেবেন তিনি। ঘটেওছিল তাই। গেরুয়া শিবিরের রথের চাকা ১০০ এর আগেই থেকে গিয়েছে ফলাফলে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০ এর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে।
ফলে গিয়েছে প্রশান্তের ভবিষ্যৎ বানী। তাছাড়াও নির্বাচন কাল থেকেই রাজ্যে হিট আইপ্যাকের তৈরি এক এক স্লোগান, প্রকল্প। ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ ‘দুয়ারে সরকার’ প্রভাব ফেলেছে বাংলার ভোটে। তবে বাংলায় ভোটে জিতলেও নিজে আর ভোট কৌশোলির কাজ করবেন না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি, সঙ্গে জানিয়েছিলেন কাজ করে যাবে নিজেদের মতোই করেই টিম আইপ্যাক।
এবার ছুটি কাটিয়ে ফের আগামি লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূলের হয়েই কাজে নামছে আইপ্যাক। ২০১৯এ কিশোরকে যুক্ত করার সময় লক্ষ্য ছিলো ২১ এর বিধানসভা নির্বাচন। বিপুল জয়ের পর মনে করা হচ্ছে এবার লক্ষ্য ২৪ এর লোকসভা। এমনিতেই বাংলায় বিজেপির প্রচন্ড তৎপরতার পর মমতা ব্যানার্জীর মা-মাটি-মানুষের দলের কাছে যেভাবে পরাস্ত হতে হয়েছে, তাতে দেশের একাধিক অ-বিজেপি দল মমতাকে মান্যতা দিচ্ছে ২৪ এর লোকসভায় মমতাকে মোদি-বিরোধী মুখ হিসেবে তুলে ধরায়।
লক্ষ্য ‘দিল্লি চলো’! একমাস ছুটি কাটিয়ে তৃণমূলের হয়ে ফের ময়দানে প্রশান্তের আইপ্যাক। তবে রাজ্যের ঘেরাটোপের বাইরে সরাসরি মোদি বিরধীতায় রণকৌশল বদলাবে বলেই মনে করছেন আইপ্যাকের সদস্যরা। সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্শির জন্য লড়াই আরও বেশি কঠিন। তবে তাঁদের বক্তব্য এখনো তৈরি হয়নি রণকৌশল। একমাসের বিরতির পর ফিরছেন তাঁরা। গত বারে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ভাগ করে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এবার এখনো সেই দায়িত্ব আসেনি। তাঁরা অপেক্ষা করছেন পরবর্তী আদেশের।



