প্রতিশোধ নেওয়া শুরু, পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অদূরে সেনাঘাঁটিতে আফগান হামলা

ইসলামাবাদের কাছে পাক সেনাঘাঁটিতে আফগান হামলার দাবি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। পাল্টা বিমান হামলা ও সীমান্ত সংঘর্ষে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘাত ক্রমশ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার মাঝে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি— ইসলামাবাদে পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অদূরে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আফগান বাহিনী। দুই দেশের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পাওয়ায় গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান বারবার সামরিক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, আফগানিস্তান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। মুজাহিদের কথায়, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পাল্টা জবাব ইতিমধ্যেই দেওয়া শুরু হয়েছে।” তাঁর দাবি, ইসলামাবাদের ফৈজ়াবাদ এলাকায় পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরের একটি সেনাঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাজুর শহরেও আত্মঘাতী ড্রোন ও মর্টার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আফগান সূত্রের দাবি, ফৈজ়াবাদ ছাড়াও নওশেরা, জামরুদ মিলিটারি কলোনি এবং অ্যাবটাবাদ অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান অভিযানের পর। পাকিস্তান বায়ুসেনা ‘গজ়ব লিল-হক’ নামে অভিযানে কাবুল, কন্দহর ও পকতিয়া প্রদেশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলায় ১৩০ তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। পাকিস্তান প্রকাশ্যে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আফগানিস্তান পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা করে।

শুক্রবার ভোরে কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তালিবান প্রশাসনের অভিযোগ, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান লাগাতার হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা অভিযানে আফগান বাহিনী সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি সেনাঘাঁটি ও ১৯টি চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ৫৫ পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে— যদিও এই সংখ্যার স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। কয়েকজন পাক সেনাকে বন্দি করার দাবিও করা হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাঝে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে যে কোনও সহায়তায় প্রস্তুত তেহরান। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চিনও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী অঞ্চলের এত দ্রুত সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর বিশ্বরাজনীতির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত