গার্ডেনরিচে বেআইনি বহুতল ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত বহু। এই ঘটনায় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানায় নিয়েছেন বিরোধী মহল। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী সরাসরি ফিরহাদ হাকিমকে ‘খুনি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানালেন।
আরও পড়ুন: সন্দেশখালিকাণ্ডের পর প্রথম বসিরহাটে অভিষেক, পারবেন শাহজাহানদের তৈরি করা ‘সমস্যা’ মেটাতে?


গার্ডেনরিচের বহুতল যে বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যদিও তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবালকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মেয়র বলে অভিযোগ বিরোধীদের। কারণ, কাউন্সিলর বলেচনে, তিনি নাকি জানতেনই না যে তাঁর এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মাণ হচ্ছে! মেয়র তাঁকে সমর্থন করে বলেছেন, এগুলো কাউন্সিলরের জানার কথা নয়। এটা ইঞ্জিনিয়ারদের জানার কথা, তাঁদের শো-কজ করা হয়েছে।

ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, “আমার এটা জানা ছিল না। আমি ৮০০-এর ওপর বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২৫-টার বেশি বাড়ি গার্ডেনরিচে ভাঙা হয়েছে। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি। আমি জানি না কীভাবে এটাকে দূর করা যাবে! আমরা চেষ্টায় আছি।”

অধীর রঞ্জনের সাফ কথা, “তিনি কিছু জানতেন না এটা হতেই পারে না। শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বহুতল। উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে আমাদের চোখে ধুলো দিতে চাইছে। রমজান মাসে এতগুলো মানুষকে খুন করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি একজন খুনি। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাঁকে আসন থেকে নামিয়ে দেওয়া উচিৎ।”


‘ফিরহাদ হাকিম একজন খুনি’, গার্ডেনরিচকাণ্ডে মেয়রের গ্রেফতারির দাবিতে সরব অধীর
গার্ডেনরিচ অঞ্চলে এখনও অনেক অবৈধ নির্মাণের সন্ধান মিলছে। পুকুর বুজিয়ে বহুতল নির্মাণ থেকে শুরু করে দোতলা বাড়ির অনুমতি নিয়ে চারতলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার পর কে কার ঘাড়ে দায় দেবেন তা নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রোমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ও আহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে বলে জানান।







