“খবরের শিরোনামে থাকতেই বিতর্ক তৈরি করেন” এবার অধীরের নিশানায় রাজ্যপাল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ “খবরের শিরোনামে থাকতেই বিতর্ক তৈরি করেন” এবার অধীরের নিশানায় রাজ্যপাল। রাজ্য রাজ্যপাল বিতর্কের মধ্যেই এবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে আক্রমন শানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। জানালেন খবরে থাকতেই এই ধরনের কথা বলেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর কেন্দ্র বহরমপুরের সমস্যা সমাধানের দাবিও জানালেন তিনি। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথাগুলি বলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে তৈরি হবে আরও দুটি ক্যানসার হাসপাতাল, নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা মমতার।

আসন্ন রাজ্য বাজেট অধিবেশনে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বাজেট বক্তৃতা পড়তে না চাওয়া নিয়ে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন “চিরাচরিত প্রথা মেনে রাজ্যপালের কর্তব্য রাজ্য সরকার তাকে যা লিখে দেবে সেটাই তাকে পড়তে হবে। এখন যদি রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন এটা সংবিধানের লেখা রয়েছে কিনা তাহলে আমি বলব এটা সংবিধানের লেখা নেই। তবে রাজ্য বা দেশের আইনসভা শুধুমাত্র সংবিধান মেনে চলতে পারে না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে কিছু প্রথা, রীতি এবং প্রটোকল মেনে চলতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজের প্রয়োজনে কখনও প্রথা মানেন আবার কখনও তা মানতে অস্বীকার করেন। তার এই দ্বিচারিতা ঠিক নয়। একটি নির্বাচিত সরকার গত বছরে কি কি ভাল কাজ করেছে এবং আগামী দিনে তারা কি কি কাজ করতে চায় তার একটি রূপরেখা তারা লিখিতভাবে রাজ্যপালকে দেবে এবং সেটি তাকে বিধানসভাতে পড়তে হবে। রাজ্যপালের বক্তব্যের উপর পরবর্তীকালে বিতর্ক হতে পারে এবং বিরোধী পক্ষ রাজ্যপালের বক্তব্যের সংশোধনী চাইতে পারে। কিন্তু রাজ্যপাল যদি রাজ্য সরকারের লিখিত ভাষণ পড়তে অস্বীকার করেন তাহলে তা নিয়ম এবং প্রথাবিরুদ্ধ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। সংবিধানের রাজা হিসেবে পরিচিত ভারতবর্ষের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে মোদি সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়তে হয়েছিল। দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতিও বর্তমান সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়েছেন। রাজ্যপাল হয়ত বিতর্ক তৈরি করে নিজেকে খবরের শিরোনামে রাখবার চেষ্টা করছেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে পরম্পরা এবং ঐতিহ্য নষ্ট হবে।”

এরপরেই তাঁর সংযোজন “তাই আপনাকেও (রাজ্যপাল) রাজ্য সরকার যা লিখে দেবে সেই ভাষণই পড়তে হবে। সাংবিধানিক ব্যবস্থাতে অনেক কিছুই লেখা থাকেনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই প্রথা, ‘কনভেনশন’, ‘প্রেসিডেন্ট’, ‘প্রটোকল’ এগুলির উপর নির্ভর করে চলে। আপনি সব জানেন, কিন্তু তাও আপনি অহেতুক বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন।” এছাড়া নিজের কেন্দ্র বহরমপুরের ভাগার সংস্করনের দাবি তুলে তিনি বলেন “এই সমস্যা থেকে আমরা খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারতাম যদি পৌরসভা সঠিকভাবে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে পারত। কিন্তু পৌর নগর উন্নয়ন দপ্তরের ব্যর্থতার জন্য গোটা এলাকার বাতাবরণ এখন দূষিত হয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় পানীয় জলও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। আমার জানা নেই বহরমপুর ছাড়া রাজ্যের আর কোন পৌর এলাকাতে শহরের মধ্যে ভাগাড় আছে বলে।  যদি পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর সঠিকভাবে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে পারত তাহলে আবর্জনাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংশোধিত করে সার তৈরি করা যেত। এবং সেই সার ফসল উত্‍পাদনের কাজে ব্যবহার করা যায়। কংগ্রেস যখন বহরমপুর পৌরসভা চালানোর দায়িত্ব ছিল তখন বহরমপুর-লালবাগ সড়কের ধারে ৩২ বিঘা জমি কেনা হয়েছিল সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করবার জন্য। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ সঠিকভাবে হলে প্রচুর স্বনির্ভর গোষ্ঠী সার তৈরীর কাজ পেত ,তার ফলে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হতো। কিন্তু বহরমপুর পৌর এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আবর্জনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতে ভাগাড় এখনো উপচে পড়ছে কিন্তু পৌরসভা এই সমস্যা সমাধানে উদাসীন।”

“খবরের শিরোনামে থাকতেই বিতর্ক তৈরি করেন” এবার অধীরের নিশানায় রাজ্যপাল। সাংবাদিকদের অধীরবাবু আরও বলেন “জানুয়ারি মাসে পিএসসি-র বহরমপুরের বৈঠকে রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কর্তারা আমাকে জানিয়েছিলেন এই বিষয়টি নিয়ে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করবেন। কিন্তু এখনও গোটা বিষয়ে তারা কোন পদক্ষেপ করেননি।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর