লোকসভা ভোটে বহরমপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর কার্যত অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে ফের একবার রাজ্য সরকারের প্রবল সমালোচনা করে সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় অরাজকতা চলছে। কৃত্রিমভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে শাসক দলের হার্মাদরা। গণতন্ত্র বাঁচাতে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে একটি চিঠি মারফত অধীর জানিয়েছেন, বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। বাংলায় পর পর ঘটে চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে বাংলার আইনশৃঙ্খলার রক্ষায় অবিলম্বে হাল ফেরাতে প্রয়োজন রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ। এই মুহূর্তে বাংলায় যে অরাজকতা চলছে সেটা যে শুধু বিব্রতকর তাই নয়, এটা ভীষণভাবে উদ্বেগেরও। সবটাই হচ্ছে বিরোধী দলের সমর্থক এবং নেতাকর্মীদের উপর শাসকদলের নিষ্ঠুর আচরণে।”



রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও অভিযোগ করেছেন, “লোকসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানো হয়েছিল।” অধীরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কড়া ব্যবস্থা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে এড়ানো যায়নি শাসক দলের সন্ত্রাস। শুধু তাই নয় এই সন্ত্রাস ভোট মিটলেও বজায় রেখেছে শাসক দলের দুষ্কৃতীরা। এখন সবচেয়ে উদ্বেগের হল ভোট পরবর্তী হিংসা। একেবারে বিপন্ন করে রেখেছে বাংলার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জীবন যাপন। ভোট পরবর্তী হিংসায় ময়নাগুড়িতে কংগ্রেস কর্মী খুনের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলায় অব্যাহত অরাজকতা, গণতন্ত্র বাঁচানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি অধীরের



উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের আগেও সন্দেশখালি ইস্যু নিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছিলেন অধীর। যদিও বিজেপির তালে তাল মেলানোর কারণে দলের তরফেই তাঁকে ভর্ৎসনার স্বীকার হতে হয়েছিল। রাজ্যের শাসকদলও কটাক্ষ করে বলেন, অধীর বিজেপির ভাষায় কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথা কানে না তুলেই এবারও কার্যত সেই একই ভাষাতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানালেন তিনি।







