নজরবন্দি ব্যুরোঃ জীবন আর ছবি পরস্পর মিলে মিশে যায় পর্দায়। আর এই দুঃসাধ্য কাজ যিনি অনায়াসে সাধন করেন তিনি অভিনেতা, সেরমই এক গুরুভার নিলেন চঞ্চল চৌধুরী। কিংবদন্তি পরিচালক মৃণালের ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। নববর্ষে নতুন চমক দিতে চলেছেন সৃজিত মুখার্জি। বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণালের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হয়েছিলেন তিনি আর সেই দিনেই ঘোষিত হল ‘পদাতিক’-এর যাত্রার।
আরও পড়ুনঃ ‘পাঠান’ বিতর্কে নয়া মোড়। ছবির কোন অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিল সেন্সর বোর্ড।


মৃণাল সেনের জীবনচিত্র বানানোর পরিকল্পনা আগেই ছিল সৃজিত মুখার্জীর। প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর কাজটা তিনি শুরু করেছিলেন লকডাউনের সময়। সিরিজ হিসেবে সূচনা হলেও তাঁকে বাঁধা হল চিত্রনাট্যতে। নিজের পিতার জীবন নির্ভর ছবিতে মৃণাল পুত্র কুণাল সেনের অবদান কম নয়। ছবিটির প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান।

কারাগার অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরি সম্প্রতি ‘হাওয়া’র প্রচারে কলকাতায় পা রেখেছিলেন। কিন্তু তারপরই পিতার মৃত্যুতে কিছুদিন বিরতি নিতে চেয়েছিলেন। তবে সৃজিতের জোরাজুরিতে তিনিও ফিরছেন অভিনয়ে। সৃজিত জানিয়েছেন, “প্রথমত দু’জনের মুখের মিল আছে। সেটা কাকতালীয়। কিন্তু মৃণালবাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো এবং সজাগ। তা ছাড়াও মৃণালবাবুর রাজনীতি চেতনা, তাঁর যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল। সেটা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু মিলটা আছে”।

ছবিতে অবশ্য মৃণালের ব্যক্তিগত এবং পরিচালনার জীবনই বেশি থাকবে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে তাঁর বানানো কলকাতা ট্রিলজি মূল লক্ষ্য ছবির। তাঁর নাম পরিচালক হিসাবে বাংলার সর্বকালীন সেরাদের মধ্যে অন্যতম বলে পরিগণিত হয়। ‘পদ্মভূষণ’ থেকে ‘দাদাসাহেব ফালকে একাধিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।


‘পদাতিক’-এর যাত্রায় চঞ্চল চৌধুরী, নববর্ষে ফিরছে মৃণাল-যুগ

ভুবন সোম, মৃগয়া, আকালের সন্ধানে, খারিজ, পদাতিক, একদিন প্রতিদিন একের পর এক ছবিতে পরিচালক মৃণাল ছাপিয়ে গেছেন নিজেকেই। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সুতরাং এমন একজন কৃতি ব্যক্তির জীবন ফুটিয়ে তুলতে পারেন আর একজন কৃতি অভিনেতাই। চঞ্চল চৌধুরি সেই অভিনেতা যার ছবি দুই বাংলায় রাজত্ব করেছে। সম্প্রতি যাঁর দু’পর্বের ‘কারাগার’, ‘তকদির’-এর মতো ওয়েব সিরিজ় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। ফলত বাংলার সিনে দর্শক একটি মননশীল ছবির জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকবে এবছর।







