নন্দীগ্রাম দিবসে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলন একসময় পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন বামশাসনের পতনের কারণ হয়ে উঠেছিল। সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আজও অনেকের মনে তাজা। ঠিক সেই ইতিহাসকেই মনে করিয়ে আজ, ১০ নভেম্বর, নন্দীগ্রাম দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে এক প্রকার রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের বার্তা স্পষ্ট— বাংলার মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় লড়াই করেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ সিপিএমকে শিক্ষা দিয়েছিল, এবার বিজেপিরও দর্প চূর্ণ হবে। বিজেপির ঔদ্ধত্যের জবাব ব্যালট বক্সে দেবে মানুষ।”


২০০৭ সালের এই দিনেই নন্দীগ্রামে ঘটে গিয়েছিল ইতিহাস। ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এর নামে সেদিন যে রক্তপাত ঘটেছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল। সেই আন্দোলনেই তৎকালীন বাম সরকারকে তীব্র চাপে ফেলে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আজও সেই দিনটি রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রতি বছর ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে তৃণমূল। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি, সেই দিনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন দলের নেতৃত্ব। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী— যিনি একসময় তৃণমূলের সৈনিক ছিলেন এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ— তিনিও ফি বছর নিজের এলাকায় এই দিন উদযাপন করেন, তবে এখন তিনি বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে।
আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে (X Handle) পোস্ট করে নন্দীগ্রামের শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী হিসেবে সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে তিনিই ছিলেন। মমতার বার্তায় উঠে এসেছে আত্মত্যাগের কথা, মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের কথা।


অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন— “২০০৭ সালের এই দিনে সিপিএমের বর্বরোচিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল বাংলার মানুষ। নিজেদের অধিকার কীভাবে ছিনিয়ে নিতে হয়, তা সেদিনই দেখিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের মানুষ। বামেরা যেমন শিক্ষা পেয়েছিল, বিজেপিরও দর্প চূর্ণ হবে এভাবেই।”
SIR (Self-Respect, Integrity, Resilience) আবহে অভিষেকের হুঁশিয়ারি— “বাংলার মানুষের মাথা নত করা যাবে না। তোমাদের জমিদারি মানসিকতা, ঔদ্ধত্য— সব কিছুর জবাব পাবে ব্যালট বক্সে।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে একদিকে বাম আমলের ‘লাল সন্ত্রাস’-এর কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের অতীত সংগ্রামের গৌরব তুলে ধরেছেন অভিষেক, অন্যদিকে বর্তমান বিজেপি সরকারের ‘অহংকার’-এর বিরুদ্ধে নতুন লড়াইয়ের আহ্বানও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বার্তা তৃণমূলের রাজনৈতিক মেরুকরণ কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নন্দীগ্রাম দিবস তাই শুধু ইতিহাস স্মরণ নয়, রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার দিনও। আর সেই বার্তায় অভিষেক স্পষ্ট করেছেন— “বাংলা অন্যায় সহ্য করবে না, বরং গণতান্ত্রিক পথে জবাব দেবে।”







