বাজেট অধিবেশনের জবাবি ভাষণে ঝাঁঝালো তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বাজেট পেশের পরেই অভিষেক এই বাজেটকে ব্যর্থ বাজেট বলেন। আর আজ, বুধবার আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ভাষণ দিলেন প্রায় এক ঘন্টা। তুমুল হইচই শুরু হল লোকসভায়। পাঠান সিনেমার ডায়লগ ধার করে তৃণমূল সেনাপতি বিজেপি সাংসদদের বললেন, “সিট বেল্ট শক্ত করে বেঁধে নিন, আবহাওয়া পরিবর্তন হতে চলেছে।”
এদিন ভাষণের একেবারে শেষে অভিষেক বলেন, “গতকাল আমি বাজেট শুনেছি এই সংসদে বসেই। আমি শুধু লোকসভায় একটাই তফাত দেখতে পারছি, সেটা হল বিজেপির চিয়ারলিডার কমে গিয়েছে। নেতামন্ত্র সব একই আছে। কিন্তু, টেবিল চাপড়ানোর জন্য আর পর্যাপ্ত লোক নেই!” পাশাপাশি বিগত পাঁচ বছরে মোদি সরকার কীভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করেছে তা তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজের জন্য বাংলাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে। ওপেন চ্যালেঞ্জ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকেও।



অভিষেক বক্তৃতা করার সময় প্রথমে অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন দিলীপ শইকিয়া। তৃণমূল সাংসদ বাজেটে কীভাবে বাংলাকে বঞ্চনা করা হয়েছে তা নিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় বিজেপির বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কিছু কটুক্তি করেন। সেই সময় নিজের মেজাজ হারান অভিষেক। তিনি পাল্টা বলেন, সৌমিত্র নিজের স্ত্রী সুজাতা মণ্ডলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন! দু’পক্ষের বাদানুবাদে সংসদ এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দিলীপের বদলে স্পিকার ওম বিড়লা পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন।


সংসদের নিয়মানুযায়ী, যারা এই সংসদের সদস্য নন, অর্থাৎ সাংসদ নন, তাঁদের নাম নিয়ে আলোচনা করা যায় না। মমতা বা সুজাতা কেউই সেই অর্থে সংসদের সদস্য নন। অভিষেক নিজের বক্তব্য থামিয়ে স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করেন সৌমিত্র যেন ক্ষমা চান। যদিও তা হয় না, স্পিকার সৌমিত্রর মন্তব্যকে নিন্দা জানান এবং সেটিকে লোকসভার রেকর্ড থেকে মুছে দেবার কথা ঘোষণা করেন।
চিয়ারলিডারের সংখ্যাটা অনেক কমেছে, বিজেপিকে বেলাগাম আক্রমণ অভিষেকের!

অভিষেক নিজের বক্তব্যে বাজেট শব্দটিকে অ্যাক্রনিমে ভেঙে একটি নতুন অর্থ তৈরি করলেন। ইংরেজি শব্দ বাজেট (BUDGET) ছয় অক্ষরের। প্রথম অক্ষর ‘বি’। অভিষেকের মতে, এই ‘বি’-এর অর্থ তাঁর কথায়, ব্রিট্রেয়াল অর্থাৎ, বিশ্বাসঘাতকতা। ‘ইউ’-এর অর্থ, আনএমপ্লোয়মেন্ট, অর্থাৎ বেকারত্ব। ‘ডি’-এর অর্থ, ডিপ্রাইভ অর্থাৎ, বঞ্চনা। ‘জি’-এর অর্থ ঘোটালা বা গ্যারান্টি। ‘ই’-এর অর্থ এনসেন্ট্রিক অর্থাৎ উদ্ভট। এবং, ‘টি’-এর অর্থ অভিষেকের মতে, ট্র্যাজিক! এদিন সংসদে প্রায় একঘন্টার বেশি বক্তব্য করলেন তৃণমূল সেনাপতি। আর সেখানে ঘুরে ফিরে এল বাজেটের নতুন এই অর্থ!







