নজরবন্দি ব্যুরোঃ চার অভিনব প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে সবকটি পূরণের দাবি অভিষেকের। চতুর্থ দফা নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূলের কর্মসূচীতে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা সংখ্যা প্রায় সমান। এবারের প্রচারে অভিষেকই যে তৃণমূলের তুরুপের তাস সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজও মমতার পাশাপাশি তিনিও সন্দেশখালিতে তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার মাহাতোর প্রচার করছেন।
আরও পড়ুনঃ “মানুষ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য বসে আছে” উত্তরবঙ্গে কর্মীদের বার্তা দিলীপের


সেই প্রচারে অভিষেক জানান তিনি নিশ্চিত তৃতীয় বারের জন্য সরকার গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস। একইসাথে সভা থেকে তিনি চারটি অভিনব প্রতিশ্রুতি দিলেন। এবং প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় ফিরলে তৎক্ষণাৎ পূরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। কি সেই অভিনব প্রতিশ্রুতি? ১. ভোটে জিতলে সাধারন মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্টে সরাসরি পাঠানো হবে টাকা। অভিষেক আজ জানান ‘জেনারেল’ হলে সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বছরে মোট ৬ হাজার টাকা। ‘এসসি’, ‘এসটি’ হলে পাওয়া যাবে বছরে ১২ হাজার টাকা। অর্থাত্ মাস প্রতি এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ২. নির্বাচনের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প এনে চমক দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
সেই পথ ধরেই ভোটের আবহে ‘দুয়ারে রেশন’-এর প্রতিশ্রুতি। জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজেও ঘরে ঘরে রেশন পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ও রয়েছেন সেই পথেই। জনসভা থেকে তিনি বলেছেন, “না থাকবে রেশনের দোকান, না থাকবে লাইন। কারণ ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে সবকিছু।” ৩. কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের প্রতি কতোটা দরদী সে ব্যাপারে একাধিকবার উঠেছে প্রশ্ন। সিংঘু সীমান্তের আন্দোলন জোর বাড়িয়েছে কেন্দ্র বিরোধী দলের। তৃণমূলের কাছেও দিল্লি সীমান্তের এই আন্দোলন এক হাতিয়ার। এদিন সভামঞ্চ থেকে অভিষেক জানিয়েছেন, আগামী দিনে তৃণমূল সরকার গড়লে কৃষকদের দেওয়া হবে ১০ হাজার আর্থিক সাহায্য। যেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা। ৪. তিনি জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে রাজ্যের সকল মেধাবী পড়ুয়াদের পড়াশোনায় সাহায্য করবে সরকার। বাংলার সমস্ত মেধাবী ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ১০ লক্ষ সাহায্য অর্থ। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
চার অভিনব প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে সবকটি পূরণের দাবি অভিষেকের। চার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল। এর আগে স্বাস্থ্যসাথী দুয়ারে সরকারের মত প্রকল্পগুলি যথেষ্ট সাফল্য পাওয়ার পর এই চার প্রতিশ্রুতিও মানুষের মনে ধরবে বলেই মনে করছে তারা। এদিকে সভা থেকে আজ বিজেপিকেও বিঁধতে ভোলেননি অভিষেক। এখন দেখার তাঁর প্রতিশ্রুতি তৃণমূলকে নবান্ন দখল রাখতে সাহায্য করে কিনা।









