‘ভোটিং মেশিন পুড়লে নীরব, বিরোধী পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট!’ বিজেপি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের

১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র পুড়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এনে বিরোধী দলের পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি সরকারকে করলেন তীব্র কটাক্ষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: ভোটিং মেশিন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিরোধী দলের পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট করতে দমকল বিভাগের তৎপরতার সঙ্গে ভোটের পর বিপুল সংখ্যক নির্বাচনী যন্ত্র পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

অভিষেকের অভিযোগ, তিন দিন আগে তাঁদের দলের সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট করতে পাঠানো হয়েছে দমকল বিভাগকে। তাঁর দাবি, এই প্রশাসনিক তৎপরতার সঙ্গে রয়েছে ক্যামেরা ও প্রচারের ব্যবস্থাও। ঘটনাটিকে ‘মিডিয়া সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ।

তাঁর প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্য ভোটিং মেশিনে আগুন লাগার ঘটনা। অভিষেকের দাবি, ভোটের মাত্র এক মাসের মধ্যে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে গিয়েছিল ৪,০০০ Control Unit, ৪,০০০ Ballot Unit এবং ৪,০০০ VVPAT—অর্থাৎ মোট ১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র।

এই ঘটনাকে সামনে রেখেই প্রশাসনের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলের কার্যালয়ে অগ্নিসুরক্ষা যাচাইয়ের জন্য যদি এত দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়, তাহলে হাজার হাজার নির্বাচনী যন্ত্র আগুনে নষ্ট হওয়ার সময় একই ধরনের তৎপরতা কেন দেখা গেল না?

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তীব্র ব্যঙ্গের সুরে অভিষেক লিখেছেন, ১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র আগুনে পুড়ে গেলেও সরকারের ঘুম ভাঙে না, অথচ বিরোধী দলের অফিস দেখলেই অগ্নিসুরক্ষার প্রতি হঠাৎ আগ্রহ তৈরি হয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমেই বিজেপি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন তিনি।

শুধু ফায়ার অডিট নিয়েই থামেননি তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, যদি সময়মতো আলিপুরের সরকারি দফতরে অগ্নিসুরক্ষা অডিট করা হত, তাহলে হয়তো ওই ১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র আগুনে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হত।

অভিষেকের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও গুরুতর প্রশ্ন। তাঁর দাবি, অডিট যদি আরও গভীরে করা হত, তাহলে শুধু আগুন লাগার কারণই নয়, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘আসল মুখ’ও সামনে চলে আসতে পারত। তবে এগুলি অভিষেকের রাজনৈতিক অভিযোগ; পোস্টে তাঁর দাবির সমর্থনে কোনও পৃথক তদন্তের নথি বা সরকারি রিপোর্ট তুলে ধরা হয়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলের কার্যালয়ে ফায়ার অডিট, অন্যদিকে ভোটের পর বিপুল সংখ্যক নির্বাচনী যন্ত্র পুড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ—দুই ঘটনাকে একসঙ্গে টেনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই আক্রমণের জবাব বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের তরফে কী আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, ফায়ার অডিটের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্নটি অভিষেক সামনে এনেছেন, তার মূল জায়গায় রয়েছে ভোটিং মেশিনে আগুন লাগার সেই ঘটনা এবং তার তদন্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক।

শেষ পর্যন্ত ফায়ার অডিটকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কতটা বাড়ে, সেটাই দেখার। তবে অভিষেকের পোস্টে স্পষ্ট, বিরোধী দলের অফিসে অগ্নিসুরক্ষা যাচাইয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তিনি নিছক প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখছেন না; বরং এর সঙ্গে ভোটিং মেশিন পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে মিলিয়ে বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন