সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশই যেন রাজনীতির ময়দানে আগুনে ঘি ঢেলে দিল। SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বারাসতের সভামঞ্চ থেকে আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর হুঁশিয়ারি—“আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব… তৈরি থাকো।”
বারাসতের কাছারি ময়দানের সভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়ার আড়ালে পরিকল্পিত ভাবে বাংলার ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গরিব ও প্রবীণদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এ দিন তিনি জানান, প্রায় ২০ দিন আগে দিল্লিতে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে পাঠানো নোটিস ও হিয়ারিংয়ের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু কমিশন তা মানেনি।
এর পরই তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত কার্যত তৃণমূলের দাবিকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং হিয়ারিংয়ের সময় বিএলএ-টু (Booth Level Agent) উপস্থিত থাকতে পারবেন। এই প্রসঙ্গেই অভিষেকের কটাক্ষ, “বিজেপির SIR-এর খেলা শেষ। আদালত আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে।”
SIR-এর ড্রাফ্ট ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকেও নিশানা করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, “সবচেয়ে কম নাম বাদ গিয়েছে বাংলায়। অথচ গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে সবথেকে বেশি ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে।”
সভামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতা। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা থেকে শুরু করে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বঙ্কিমচন্দ্র প্রসঙ্গ—সব কিছুকেই বাংলার সংস্কৃতির প্রতি ‘অসম্মান’ বলে আখ্যা দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, সড়ক ও শিক্ষা প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে।
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে ‘চিকেন প্যাটিস বিক্রি’র অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাও তোলেন অভিষেক। অভিযুক্তরা জামিন পাওয়ার পরে বিজেপির তরফে সংবর্ধনা পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“৭০টা আসন নিয়ে যে দল এই কাজ করে, তারা যদি বাংলায় ক্ষমতায় থাকত, তাহলে কী হতো?”
বাংলা ভাষা নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। কটাক্ষের সুরে বলেন, “যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেয়, সেখানে বাংলায় কী লেখা আছে সেটাও পড়তে পারবে না। অথচ ওরাই নাকি ‘সোনার বাংলা’ গড়বে।”
ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তাও দেন অভিষেক। বিজেপি ভোটের সময় টাকা ছড়াবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, “ওই টাকা আপনার। নেবেন। বলবেন বিজেপিকে ভোট দেবেন। কিন্তু ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে জোড়াফুলে ভোট দেবেন।”
সভা শেষ করেন ভবিষ্যদ্বাণী ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে—“২৫০-র বেশি আসন পেয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে। বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামাব। যারা আমাদের টাইট করতে চেয়েছে, টাইট তারাই হবে।”



