একুশের নির্বাচনে রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত বিধানসভা কেন্দ্র ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই সেই নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল বাড়ছে। এই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার অভিষেক জানান, তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির এবার অনুষ্ঠিত হবে নন্দীগ্রামে—যে কেন্দ্রের বিধায়ক এবং বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে গিয়ে ওই সেবাশ্রয় ক্যাম্পের সূচনা করবেন অভিষেক নিজেই।
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই প্রার্থী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মাত্র ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হন শুভেন্দু। ওই ফলাফল নিয়ে পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থও হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা নতুন করে চড়ছে। সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জল্পনার জবাবে অভিষেক জানিয়েছিলেন, দল যেখানে দায়িত্ব দেবে, সেখানেই তিনি কাজ করবেন—নন্দীগ্রাম হোক বা দার্জিলিং।
এই আবহেই নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় শিবিরের ঘোষণা রাজনৈতিক তাৎপর্য পাচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে প্রথম পর্যায়ের সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। পরে ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ‘সেবাশ্রয়–২’, যা চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতদিন এই কর্মসূচি মূলত ডায়মন্ড হারবার এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এবার সেই মডেলই নন্দীগ্রামে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিষেক। নন্দীগ্রামে দুটি সেবাশ্রয় ক্যাম্প হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—ছাব্বিশে কি আবারও নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন রাজ্য রাজনীতি।



