অবৈধ নির্মাণ বিতর্কে এবার সময় চাইলেন অভিষেক! কলকাতা পুরসভায় আইনজীবীর চিঠি ঘিরে জল্পনা

কলকাতা পৌরনিগমের বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিসের পর আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনারের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে কলকাতা পৌরনিগমের নোটিসের পর নতুন মোড়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে পুরসভাকে চিঠি পাঠিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— অবস্থান কি বদলাল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের?

কলকাতা পৌরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন Abhishek Banerjee। তাঁর সম্পত্তির মূল্যায়ন এবং বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

পুর কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, আবেদনটি নিয়ম মেনেই বিবেচনা করা হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি পাঠানো হবে পৌর কমিশনারের কাছে। কমিশনারের সিদ্ধান্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে এই একই ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক। সে সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বেআইনি অংশ কোথায় রয়েছে তা জানতে হলে কলকাতা পৌরনিগমের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ঠিক কী নিয়ে নোটিস? কলকাতা পৌরনিগমের পক্ষ থেকে কালীঘাট এবং শান্তিনিকেতনের সম্পত্তি নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলিতে অনুমোদনবিহীন নির্মাণ ও কিছু অংশ পরিবর্তন করে নতুন নির্মাণ করা হয়েছে।

পুরসভার দাবি অনুযায়ী, ৪০০(১) ধারার আওতায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। কালীঘাটের ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড এবং ১২১ কালীঘাট রোড সংলগ্ন সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই সম্পত্তির একটি অংশ অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

নোটিসে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে পুর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থায় পদক্ষেপ করতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এখন নজর একটাই— সময় চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর হয় কি না এবং তার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী নথি বা ব্যাখ্যা জমা দেন। কারণ প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও আগামী দিনে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন