ভোটের আগে বাঁকুড়ায় তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন। শালতোড়ায় জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতেই দলে যোগ দিলেন দুই প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা—যা জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শনিবার Abhishek Banerjee-র সভা হয় Saltora-র নেতাজি সেন্টেনারি কলেজের মাঠে। সভামঞ্চে তাঁর উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এক প্রাক্তন ব্লক সভাপতি এবং Bankura Municipality-র এক নির্দল কাউন্সিলর। দলীয় সূত্রের মতে, এই যোগদান বাঁকুড়ায় সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করবে।
এ দিনের সভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না”—এর পরেই বিজেপির রাজনীতিকে আক্রমণ করে একাধিক কটাক্ষ শোনান। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সভায় পাথর খাদান শ্রমিকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন অভিষেক। তিনি জানান, ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচির সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া মেনে ক্রাশারের কাজ চালু করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে তা এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে চার থেকে সাড়ে চার হাজার শ্রমিক যুক্ত থাকলেও কাজ সম্পূর্ণ চালু হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
ভোটের অঙ্ক কষে অভিষেক বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে চারটিতে তৃণমূল জিতেছিল, বাকি আটটি ছিল বিজেপির দখলে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে—এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপিও ছয়। তাঁর আহ্বান, বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া—দু’জায়গাতেই ‘ছয় মার’ দিয়ে ফল ১২–০ করতে হবে।
সভা শেষ করেন তুলনামূলক বার্তায়। অভিষেক বলেন, তৃণমূল জিতলে অধিকার ও দু’মুঠো ভাত নিশ্চিত হবে, দুয়ারে রেশন ও সামাজিক সুরক্ষা মিলবে। আর বিজেপি জিতলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও ‘মন কি বাত’ ছাড়া কিছুই জুটবে না—কী নেবেন, সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই।



