ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই আবহেই নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে সরাসরি চিঠি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চ থেকেই শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সুরে হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একই দাবি জানান তিনি।


চিঠিতে অভিষেক উল্লেখ করেছেন, রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মানা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পাশাপাশি প্রতিদিনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও প্রকাশ করা উচিত, যাতে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যায়।
ধর্না মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর কথায়,
“ডিসেম্বর মাসে ড্রাফট ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় বাংলা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছ’লক্ষ নাম বাদ গেছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩-৬৪ লক্ষ। আর বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষের বেশি নাম।”
অভিষেকের চিঠিতে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


প্রথমত, প্রতিদিনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তা চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য তৈরি বিশেষ পোর্টালে যাচাই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য সেই তথ্য স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃতীয়ত, কোনও ভোটারের নাম বাতিল করা হলে তার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় কারও নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে, যাতে প্রয়োজনে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ খুব শিগগিরই রাজ্যে আসতে চলেছে। সূত্রের খবর, ৮ মার্চ রাতে কমিশনের প্রতিনিধিরা কলকাতায় পৌঁছতে পারেন। তার আগেই ধর্না মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি আইনি দিক থেকেও নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।







