নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তাপ বাড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির জনসভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারের মতো যদি বাংলায় বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করতে পারে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে এই মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে—যা তৃণমূলের প্রকল্পের তুলনায় বেশি। সেই প্রসঙ্গেই বিহারের উদাহরণ টেনে অভিষেক অভিযোগ করেন, ভোটের আগে টাকা দিয়ে পরে তা ফেরত চাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে সেখানে।
বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “ওদের ইস্তেহার চিটফান্ডের লিফলেটের মতো।” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে কেন নিঃশর্তে এই ধরনের ভাতা দেওয়া হয় না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সরকারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “১২ বছর কেন্দ্রের ক্ষমতায় থেকেও মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে কি না, তার হিসাব দিক বিজেপি।” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি বিজেপি প্রমাণ করতে পারে যে সাধারণ মানুষ সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, তবে তিনি আর প্রচারে নামবেন না।
এই সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিরও প্রশংসা করেন তিনি। দাবি করেন, বাংলার মানুষ যে সুবিধা পাচ্ছেন, তাতে কেন্দ্রের কোনও অবদান নেই।
এছাড়া বিজেপির রাজনীতিকে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বলে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কাজের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, আর বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জ ও তীব্র ভাষণ রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



