২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বছরের শুরুতেই জেলাভিত্তিক প্রচার শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে প্রচারের সূচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে ছিলেন জেলা নেতৃত্ব ও যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই শুরু কেন?
ভাষণের শুরুতেই অভিষেক বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হলেও এখান থেকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, কালীঘাট জন্মভূমি হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তাঁর রাজনৈতিক শিকড়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি লক্ষ্য বেঁধে দেন—ছাব্বিশে জেলার সব আসনে জিততে হবে এবং ভোটের ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে।


গীতা-পাঠ বিতর্ক ও সামাজিক ইস্যু
ব্রিগেডে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের গীতা-পাঠ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ধর্মগ্রন্থ উদ্ধৃতি দিলেই নৈতিকতা প্রমাণ হয় না। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে হস্তক্ষেপের রাজনীতি নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পানীয় জল ও ১০০ দিনের কাজ বন্ধের অভিযোগ তোলেন।
‘ভূত’ প্রসঙ্গ তুলে কমিশনকে প্রশ্ন
মঞ্চে তিনজনকে ডেকে এনে অভিষেক জানান, নির্বাচন কমিশনের নথিতে তাঁদের ‘মৃত’ দেখানো হয়েছিল। বাস্তবে তাঁরা জীবিত—এই উদাহরণ টেনে তিনি তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বচ্ছতার দাবি করেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও শুভেন্দুকে উদ্ধৃত আক্রমণ
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি শুভেন্দু অধিকারী-র একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, যেখানে ‘ইউনুস সরকার’-এর প্রশংসা শোনা যায়। অভিষেকের মন্তব্য, “যেখানে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ, সেই সরকারের প্রশংসা—এটাই কি আপনাদের হিন্দুত্ব?”


জনকল্যাণে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ
বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, বাংলার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো নিঃশর্ত সহায়তা যদি অন্য কোথাও দেওয়া যায়, তিনি রাজনীতি ছাড়তে প্রস্তুত। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রতিটি আসনে জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজারের নীচে না নামানোর ডাকও দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বারুইপুরের সভা থেকে তৃণমূলের ২০২৬-এর রূপরেখা ও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের সুর স্পষ্ট করলেন অভিষেক—সংগঠন মজবুত করা, ভোটের ব্যবধান বাড়ানো এবং জনকল্যাণকে সামনে রেখে লড়াই।







