রাম রহিমের এই বাংলায় মইদুল সংসারের সারথি অভীক, যেন সত্যিকারের অর্জুন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: রাম রহিমের এই বাংলায় মইদুল সংসারের সারথি অভীক, যেন সত্যিকারের অর্জুন। যাঁরা বেরিয়ে আর ঘর ফেরেননি, তাঁদের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে থাকে কিছু মানুষ। সত্যি হয় মানুষের জন্য মানুষের বেচেঁ থাকা। মইদুল ইসলাম মিদ্যা এবং অভীক অর্জুন দত্ত, যেন সমার্থক হয়ে গেল। তৈরি হল ইতিহাস! মইদুলের ফেলে রাখা সংসারের আধখোলা দরজায় আলো পৌঁছে দিতে কলম ধরেছেন অভীক। অভীক পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আর প্যাশনে লেখেন। মন থেকে লেখেন। তাঁর লেখায় একাধিক বাস্তব ইস্যু থেকে নিজেদের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া, এসব নিয়ে ফেসবুক তাঁর অনুরাগী অনেক।

আরও পড়ুনঃ নজরবন্দি ১১০ টি আসন, একা মমতাকে রুখতে ২২ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আসছেন বাংলায়!

যদিও গায়ের ” ফেবু লেখক” তকমাটা পাশে সরিয়েই রাখেন তিনি। তিনি শুধু লেখেন, যাঁরা ভালোবাসেন তাঁরা পড়েন। ফেসবুকের তাঁর পাঠক সংখ্যা নেহাত কম নয়। সেখানে তিনি টাকার বিনিময়ে তাঁর লেখা পড়তে দেন, এবং বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা সেই টাকা ফিরিয়ে আনে একফালি হাসি। এক চিলতে রোদ্দুর। লকডাউন থেকে আমফান, নিজের লেখার পিডিএফ বিক্রি করে পাশে দাঁড়িয়েছেন যাঁদের পাশে আতঙ্ক আর সব হারিয়ে ফেলার ভয় ছাড়া কেউ ছিলনা তখন।

মানুষ যখন ভরসা করেছেন তাঁর ওপর, তিনিও প্রতিবার প্রাপ্ত অর্থ এবং বাকি যাকিছু যেখানে তিনি সাহায্য করেছেন সকল কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মানুষ মুখের কথায় বিশ্বাস করে পাশে এসে দাঁড়ান। আর অভীক মুঠো খুলে দেন বাকিদের সাহায্যে। এবার একই ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন মইদুলের পরিবারের পাশে। মইদুল ইসলাম মিদ্যা। ১১তারিখে সব মানুষ খুশি থাকুক এই ভেবে নবান্ন অভিযানে এসে পুলিশের লাঠিতে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের বেড থেকে ফিরে আর মেয়েদের কাছে ফেরা হয়নি তাঁর। বেড থেকে গ্রামের বাড়ি গেছেন ঠিকই, সেখানেই মাটি দেওয়া হয়েছে মইদুলকে।

স্বামীকে হারিয়ে আলেয়া বিবি চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়েছেন,মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন চাকরি, সব কিছুর থেকে অনেক দূরে পরপর ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে অভীক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আবার একবার নিজের লেখা বিক্রি করে পাশে দাঁড়ানোর। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শিল্পী তৌসিফ হক। লকডাউন, আমফানে নিজের একাধিক ছবি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে হাসিমুখ ফিরিয়ে এনেছিলেন তৌসিফও। মইদুলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অভীক নিজের কলমকে বেছে নিয়েছিলেন আরো একবার। আর তারপর পিডিএফ আকারে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।

মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে “মইদুলের জন্য” বিক্রি করেন। বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন এই সময়ের প্রতিভাবান শিল্পী তৌসিফ হক। নিজের উপন্যাস সমগ্র ছাড়া বাকি সব বইও আবার বিক্রির জন্য দেন। অভীক নিজে জানিয়েছেন মাত্র ১ রাতে সংগ্রহ হয়েছে ৭৪,০০০ টাকা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সকলকে। সমগ্র টাকা তিনি DYFI এর হাতে তুলে দেন। DYFI এই মুহূর্তে মইদুলের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। মানুষ বিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে মনুষ্যত্ব বিকিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক থেকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত