গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই চিকিৎসককে। এই মুহূর্তে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। উত্তাল গোটা দেশ। প্রায় ২২ দিন পার হয়ে গেলেও ন্যায্য বিচারের দাবিতে প্রতিদিনই রাজপথে মিছিল বেরোচ্ছে। আজ, রবিবারও শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে একাধিক মিছিলের ডাক দিয়েছে নাগরিক সমাজ।
আরজি কর ইস্যুতে যখন সরগরম গোটা রাজনৈতিক মহল তখন ফের আর একটি পোস্ট করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি লিখেছেন, “ন্যায়বিচার চেয়ে বিভিন্ন শাখার নাগরিকদের মিছিল কভারেজের অনুরোধ পাচ্ছি যুক্ত থাকা সংবাদমাধ্যমগুলিতে। যতটা পারছি ছবি, খবর প্রকাশও করছি।
নাগরিকদের মিছিল, জুনিয়র ডাক্তারদের মূল দাবি আমিও সকলের মতই সমর্থন করি। বিচার চাই। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে মানুষ ভুল বুঝেছেন। সেখান থেকে বিরক্তি, অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলেই নাগরিকদের পথে নামতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপে এই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বও সরকারের। প্রশাসন এমন কোনও কাজ করবে কেন যে অবস্থা সামলাতে শাসক দলকেও বিচার চাই বলে কর্মসূচি নিতে হবে? তাও দলের সবাই সমানভাবে নামেন না।”
সঙ্গে তৃণমূল নেতা আরও লিখেছেন, “যাই হোক, আত্মসমালোচনা দরকার। তবে নাগরিকদের কর্মসূচির বিরোধিতা বা পাল্টা কর্মসূচির প্রশ্নই নেই। কিন্তু, এই নাগরিকদের আবেগকে ব্যবহার করে সিপিএম, বিজেপির কুরাজনীতি বা মুখোশ পরে অরাজকতা তৈরির চেষ্টার বিরোধিতা করা জরুরি, তাই করছি। কারণ এদের জমানার ঘটনাগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত। একটা শ্রেণীর সুবিধাবাদী অবস্থানও সমালোচনার মতই।”
কুণালের শেষ সংযোজন, “হ্যাঁ, এই ঘটনায় নাগরিক সমাজের প্রশ্ন তোলার অধিকার আছে। বিরোধিতা কেন করব? কিন্তু সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস এনিয়ে কুরাজনীতি করছে; তার প্রতিবাদ হবে, তারা আয়নায় মুখ দেখুক। আমি আমার অবস্থানে প্রথম দিন থেকে স্পষ্ট। দোষী/দের চরম শাস্তি হোক। যদি কেউ/কারা আড়াল করে থাকে, চিহ্নিত হোক, শাস্তি হোক। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ মানুষ ভালোভাবে নেননি। সেটা প্রশাসন দেখুক। এনিয়ে নাগরিক আন্দোলন সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ইভেন্টের ফাঁদে পা দেবেন না। আমাকে যে যা খুশি বলতে পারেন।”









