প্রতিশ্রুতি-প্রচার ও বাস্তবের বিপুল গরমিল, আইনি জটিলতা ছাড়াও আটকে ‘১৮-র নিয়োগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রতিশ্রুতি-প্রচার ও বাস্তবের বিপুল গরমিল, আইনি জটিলতা ছাড়াও আটকে ‘১৮র নিয়োগ। ২০২১ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষকের আকাল ও শিক্ষিত চাকুরীপ্রার্থীদের ক্ষোভের কথা আঁচ করেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে ‘দ্বিগুণ শিক্ষক’ নিয়োগ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড চালু করেছেন ইতিমধ্যেই।

আরও পড়ুনঃ ১৮ থেকে কমে ৯, লোকসভার লক্ষ্যে দিলীপদের ‘৭ মন্ত্রে’ ট্রেনিং ‘বাধ্যতামূলক’ করল বিজেপি!

মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মসংস্থান আদৌ হবে কিনা – সেই নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি যখন শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে, তখন ২০১৮ সালের কলেজ সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকাভুক্ত প্রায় ৬০০ প্রার্থীকে এখনও নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। এক হাজারের বেশি শূন্যপদ অর্থ দপ্তরের অনুমোদন পেয়ে বিকাশ ভবনে পড়ে থাকলেও কলেজ সার্ভিস কমিশন মারফত নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

2018 CSC Empaneled Candidates Organization এর পক্ষে বলা হয়েছে, “এব্যাপারে আমরা বহুবার কলেজ সার্ভিস কমিশন ও বিকাশ ভবনে দরবার করেছি ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে ইমেইল, টুইটার, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বারবার আবেদন করা হলেও তারা নিরুত্তর। আজ আমরা বিধানসভার অধ্যক্ষকে ও সমস্ত বিধায়কদের ইমেইল মারফত আমাদের বিষয়টি বিধানসভার অধিবেশনে তোলার জন্য আবেদন জানিয়েছি এবং অবিলম্বে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”

সঙ্গঠনের মতে, “সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-অধ্যাপক নিয়োগ এত ঢিমেতালে হলে মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিকাঠামো ও গুণমান থাকবে না। বিশেষত সেমেস্টার (চয়েজ বেসড্ ক্রেডিট সিস্টেম) চালু হবার পর কলেজে স্থায়ী অধ‍্যাপকের সংখ‍্যা অন‍্যান‍্য রাজ‍্যের তুলনায় অপ্রতুল, কলেজ গুলিতে প্রায় ৬৫% শূন্যপদ।

4a58566b3bee4ae2ac40bca01e97fe84 00014a58566b3bee4ae2ac40bca01e97fe84 0002 4a58566b3bee4ae2ac40bca01e97fe84 0003

সংগঠনের সদস্য ও অধ্যাপক পদপ্রার্থী, অমর বিশ্বাসের প্রশ্ন- ‘২০১৮ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকা বর্তমান সরকারের আমলেই হয়েছে। কলেজ গুলিতে বিপুল শূন্যপদ থাকলেও আমাদের যদি নিয়োগ না দেওয়া হয়, তাহলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা কি নিছকই রাজনৈতিক গিমিক?’ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, হাইকোর্টে আইনি বাধায় বারবার নিয়োগ আটকে দিচ্ছে। ২০১৮ সালের মেধা তালিকাভুক্তদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। তবুও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না? তাহলে কি সরকারের শিক্ষক নিয়োগের সদিচ্ছা নেই? প্রতিশ্রুতি-প্রচার ও বাস্তবের বিপুল গরমিলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে খুবই শঙ্কিত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন