নজরবন্দি ব্যুরোঃ নয়া মন্ত্রীসভায় জায়গা না পাওয়া প্রাক্তন মন্ত্রীরা পদ পাচ্ছেন সরকারি কমিটিতে। রাজ্যে ২০০ র বেশী আসন পেয়ে তানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। নয়া মন্ত্রীসভায় ঠাই হয়েছে একগুচ্ছ নতুন মুখ। সেই সঙ্গে নারীশক্তির উত্থান দেখা গেছে নয়া মন্ত্রীসভায়। যেখানে মমতা সহ রয়েছেন মোট ৯ জন মহিলা। আবার নয়া মন্ত্রীসভায় ঠাই হয়নি একগুচ্ছ পুরনো মন্ত্রীর। এদের মধ্যে ৫ জন ভোটে হেরে গিয়েছেন এবং ৬ জন জিতলেও জায়গা পাননি নয়া মন্ত্রীসভায়।
আরও পড়ুনঃ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে এবার মহামারি ঘোষনা করে দিল রাজ্য, জারি নয়া নিয়মাবলী।
তিনজন এমন রয়েছেন যাঁদের টিকিট দেননি মমতা। তবে তাদের দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখবেন না সেকথা আগেই জানিয়েছিলেন মমতা। তাই তাদের বিভিন্ন সরকারি কমিটির পদাধিকারী হিসেবে বসানোর পথে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই নিয়োগ শুরু করে দেওয়া হয়েছে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি থেকে পরাজিত মন্ত্রী গৌতম দেবকে দিয়ে। ভোটে জিতেই শিলিগুড়ি পুরসভার পুর প্রশাসক করা হয়েছে গৌতমকে। এছাড়া কোচবিহারের নাটাবাড়ি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও কোচবিহার উত্তরে বিনয়কৃষ্ণ বর্মন পরাজিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে কোচবিহার থেকে এই ২ জন বিধায়ককেই মন্ত্রী করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, পরাজিত এই ২ বিধায়কের মধ্যে একজনকে উত্তরবঙ্গ পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান করা হবে। বরাহনগরের বিধায়ক তাপস রায়কে বিধানসভার উপমুখ্যসচেতক পদে ফেরানো হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তাঁকে মন্ত্রী করা হয়েছিল।
রামপুরহাটের ৫ বারের বিধায়ক আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় গত মন্ত্রিসভার কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের প্যানেলে রাখা হয়েছে বিগত সরকারে মন্ত্রী থাকা অসীমা পাত্রকে। কাকদ্বীপের ৫ বারের বিধায়ক মণ্টুরাম পাখিরা গত ২ দফায় সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাঁর বদলে মন্ত্রী করা হয়েছে সাগরের বর্ষীয়ান বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরাকে। এত দিন তিনি ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান। প্রশাসন সূত্রে খবর, মণ্টুরামকে বঙ্কিমের ছেড়ে যাওয়া পদে বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। গত মন্ত্রীসভার অন্যতম সদস্য ছিলেন চিকিৎসক নির্মল মাঝি। বিতর্কিত এই নেতাকে বিধানসভার কোনও কমিটির চেয়ারম্যান করা হবে বলে সূত্রের খবর। পশ্চিমবঙ্গ খাদি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তেহট্টের প্রয়াত বিধায়ক গৌরী দত্ত এবং মঞ্জুষা-র চেয়াম্যান ছিলেন শান্তিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অজয় দে। সম্প্রতি ২ জনেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।
নয়া মন্ত্রীসভায় জায়গা না পাওয়া প্রাক্তন মন্ত্রীরা পদ পাচ্ছেন সরকারি কমিটিতে। সেই পদেও কোনও প্রাক্তন মন্ত্রীকে বসানো হবে বলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর সূত্রে খবর। ভোটে না দাঁড়ানো পূর্ণেন্দু বসুও কোনও সরকারি কমিটিতে জায়গা পাবেন বলেই জানা যাচ্ছে। বলরামপুর থেকে পরাজিত শান্তিরাম মাহাতো ও সোনামুখী থেকে পরাজিত শ্যামল সাঁতরাকে কোন সরকারি কমিটিতে জায়গা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে। তবে মুর্শিদাবাদে ভোট বাকি থাকায় এখনই প্রাক্তন শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনেকে কোন কমিটিতে রাখা হচ্ছেনা। এছাড়া টিকিট না পাওয়া চাকদহের প্রাক্তন বিধায়ক রত্না কর ঘোষকে নিয়ে এখনও দলের কোনও ভাবনা নেই বলেই খবর। সবমিলিয়ে প্রাক্তনদেরও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেই কাজে লাগাতে চাইছেন মমতা।



