নন্দীগ্রামে বিজেপির লিড প্রায় ৭০ হাজার, রেজিনগরেও ৩৫ হাজারের ব্যবধান! অষ্টম রাউন্ডে কী ছবি?

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের অষ্টম রাউন্ডের গণনায় বিজেপির ব্যবধান আরও বেড়েছে। দুই কেন্দ্রে ভোটের অঙ্ক এবং প্রার্থীদের লড়াইয়ের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনায় অষ্টম রাউন্ডের শেষে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের লিড প্রায় ৭০ হাজার ভোটে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৩৫ হাজার ভোট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আপডেটে জানানো হয়েছে। দুই কেন্দ্রের এই গণনাচিত্র রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য সব রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, সকাল ৮টা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ভোটগণনা শুরু হয়। দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল ৬ অক্টোবর। অষ্টম রাউন্ডের শেষে বিজেপির এই বড় ব্যবধান বিরোধী শিবিরের কাছে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহেতাশ মুল হক।

এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের পিছনে রয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। সেই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ফলে নন্দীগ্রামে বিজেপির অবস্থান ধরে রাখার প্রশ্নটি এই ভোটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

রেজিনগরেও উপনির্বাচনের কারণ একই ধরনের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। সেই আসনেই এবার তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাখারভ সরকার।

রেজিনগরে বিজেপি ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির পাশাপাশি তৃণমূলের দুই শিবির, কংগ্রেস এবং বাম প্রার্থীরাও লড়াইয়ে রয়েছেন। এই বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বিজেপির ব্যবধান বাড়ার খবর ভোটের ফল বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু রাউন্ডভিত্তিক ব্যবধান দেখে কোন দলের কত ভোট অন্য দলের দিকে গিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলাদা হলেও ফলের দিকে নজর রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের। নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রভাব কতটা অটুট থাকল এবং রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনে তাঁর দলের প্রার্থী কতটা লড়াই করতে পারলেন, তা উপনির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

অষ্টম রাউন্ডের শেষে পাওয়া ব্যবধানকে তাই আপাতত গণনার মধ্যবর্তী ছবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ব্যবধান কমতে বা বাড়তে পারে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরই বোঝা যাবে, দুই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কত ভোটে জয়ী হলেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এবং উপনির্বাচনের ফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী বার্তা দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন