২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেই দিন থেকে টানা ২৫ বছর প্রশাসনের শীর্ষে থাকার মাইলফলক বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ পূর্ণ করলেন তিনি। দিল্লিতে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এই উপলক্ষে বক্তৃতায় নিজের ছাত্রজীবনের কথাও স্মরণ করেন মোদী। জানান, ছোটবেলায় স্কুলে সবার আগে পৌঁছনোর প্রবণতা ছিল তাঁর। সেই শেখার আগ্রহই পরবর্তী জীবনেও তাঁকে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর কথায়, “আজও আমি নিজেকে একজন ছাত্র মনে করি।” প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখার এই মানসিকতা তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর কেশুভাই পটেলের পর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মোদী। ২০১৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন এবং বর্তমানে তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—প্রশাসনের শীর্ষ পদে তাঁর টানা ২৫ বছরের যাত্রা সম্পূর্ণ হল এদিন।
দিল্লির অনুষ্ঠানে মোদী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কৃতিত্বকে শুধুমাত্র নিজের বলে দেখেননি। দেশের মানুষ, বিজেপি (BJP), এনডিএ (NDA) এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জনসমর্থন ও দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ বছরের এই যাত্রায় সাফল্যের পাশাপাশি বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিও এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি সংকট তাঁকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছে এবং প্রতিটি সাফল্য দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনাকেও তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এই দিনের বক্তব্যে ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে এখনও অনেক কাজ বাকি। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রসঙ্গও আসে।
মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা নিয়ে এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ৬ অক্টোবরের ওই প্রস্তাবে ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান সময় পর্যন্ত সময়কালকে তুলে ধরা হয়। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সংস্কার এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের কথাও সেই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২৫ বছর পূর্তির দিনে অবশ্য নিজের বক্তব্যে অতীতের হিসাবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্যকেই সামনে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এত দীর্ঘ সময় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকার পরও শেখার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি—বরং দেশ ও মানুষের জন্য আরও কাজ করার দায়িত্বই সামনে রয়েছে।



