নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যৌথ কর্মসূচি ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসছে INDIA জোটের একাধিক শরিক দল। সকাল ১১টা থেকে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। তবে বৈঠকের আগেই শরিকদের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তির ছবি সামনে এসেছে। আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ডিএমকে (DMK) বৈঠকে থাকছে না। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না, যদিও তাঁর দলের প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেবেন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বাম দল এবং অন্যান্য শরিকদের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে থাকার কথা রয়েছে। শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলির আপত্তিই বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।
এর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সংসদে প্রস্তাব আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিরোধী দলগুলি নতুন করে দুই কক্ষে প্রস্তাবের জন্য সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করতে পারে বলে একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
EVM এবং VVPAT নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র কোনও একটি রাজ্যের নির্বাচনী বিষয় নয়, ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও নির্বাচনী ব্যবস্থার একাধিক বিষয়ই আলোচনায় আসতে পারে।
AAP এবং DMK—দুই দলই এই বৈঠক থেকে দূরে থাকছে। ফলে INDIA জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। AAP-এর ক্ষেত্রে পঞ্জাবের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনও রাজনৈতিক সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। সেখানে কংগ্রেস এবং AAP-এর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
DMK-র ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে কংগ্রেসের অবস্থান পরিবর্তনের পর DMK-র সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুই দলের বৈঠকে অনুপস্থিতিকে INDIA জোট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। প্রকাশিত রিপোর্টগুলিতে তাদের বর্তমান অবস্থান ও বৈঠক বয়কটের কারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও বুধবারের বৈঠকে সশরীরে থাকছেন না। দলের তরফে তাঁর রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে SP-র প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক প্রতিবেদনে অখিলেশের অনুপস্থিতির সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে। India Today-এর একটি প্রতিবেদনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অখিলেশের অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে SP-র তরফে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথাই সামনে এসেছে।
এই বৈঠকে তৃণমূলের উপস্থিতিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের আরও নেতাদের বৈঠকে থাকার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় পশ্চিমবঙ্গেও সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকায় তৃণমূলের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।
একই ইস্যুতে তৃণমূল এবং বাম দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও জাতীয় স্তরে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আলোচনায় তারা একই বৈঠকে বসছে। PTI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, CPI(M), CPI এবং CPI(ML)-Liberation ইতিমধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং SIR বন্ধের দাবি তুলেছে।
ফলে AAP, DMK এবং অখিলেশ যাদবের অনুপস্থিতির মধ্যেই বুধবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন ও SIR নিয়ে শরিক দলগুলি কতটা অভিন্ন অবস্থান নিতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠক শেষে যৌথ কর্মসূচি বা সংসদে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।



