মহারাষ্ট্রের ৩৫৮টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি এবং তার জেরে কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। খরা ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের কৃষিঋণ পুনর্গঠন, ঋণ আদায় স্থগিত, কৃষিকাজের বিদ্যুৎ বিলে ছাড়-সহ একাধিক সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে খরা ঘোষণার পর কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ফসলের ক্ষতিপূরণ নিয়ে। কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে পঞ্চনামা তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৬৫টি প্রশাসনিক এলাকা খরার আওতায় আসায় মহারাষ্ট্রের একটা বড় অংশ এই সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থার মধ্যে পড়ছে। মারাঠওয়াড়া, বিদর্ভ, উত্তর মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিম মহারাষ্ট্রের একাধিক এলাকায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগের।
খরা ঘোষণার সঙ্গে কৃষকদের কৃষিঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত থাকবে। ফসলের ক্ষতির কারণে যাঁরা ঋণ পরিশোধের চাপে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ নিয়েও রয়েছে ছাড়। খরাপ্রবণ এলাকাগুলিতে কৃষি পাম্পের বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কৃষি পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জলাভাব মোকাবিলায়ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যে সব এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হবে, সেখানে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে গবাদি পশুর জন্য জল ও পশুখাদ্যের ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
খরা ঘোষণার প্রভাব শুধু কৃষিক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফি-তে ছাড় বা মকুবের ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়াতে Employment Guarantee Scheme-এর কাজ আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা। জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পঞ্চনামা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ছবি এবং GPS-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে।
এই রিপোর্টের উপরই পরবর্তী আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নির্ভর করবে। অর্থাৎ, ২৬৫টি প্রশাসনিক এলাকায় খরা ঘোষণা হলেও প্রত্যেক কৃষক কত টাকা সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
কেন এত বড় এলাকা খরার আওতায় এল, তার পিছনে শুধু মোট বৃষ্টির ঘাটতি নয়, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়াও বড় কারণ। বর্ষার মধ্যে দীর্ঘ শুষ্ক পর্ব তৈরি হলে মাটিতে আর্দ্রতা কমে যায় এবং বৃষ্টিনির্ভর চাষে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। মহারাষ্ট্রের একাধিক কৃষিপ্রধান এলাকায় এ বছর সেই সমস্যাই দেখা দিয়েছে।
ফলে আপাতত খরা ঘোষণার মাধ্যমে কৃষকদের উপর ঋণ ও বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর পাশাপাশি জল এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে মহারাষ্ট্র সরকার। কিন্তু কৃষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ফসল নষ্ট হওয়ার পরে সরাসরি কত টাকা ক্ষতিপূরণ মিলবে—তার উত্তর পেতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে পঞ্চনামা ও ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্টের জন্য।



