মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) মুগ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১০০ শতাংশ সরকারি ক্রয় এবং সার বিতরণে চালু হওয়া ই-টোকেন ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করতে ভোপালের (Bhopal) উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করা কৃষকদের পুলিশ মাঝপথে আটকে দেয়। এরপরই ভোপাল-নর্মদাপুরম (Bhopal-Narmadapuram) জাতীয় সড়কে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
নর্মদাপুরম (Narmadapuram) এবং বুধনি (Budhni) থেকে কৃষকদের এই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ভোপালে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানো। তবে রাজধানীতে প্রবেশের আগেই সিএসআইআর-এএমপিআরআই (CSIR-AMPRI)-এর কাছে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।
পুলিশি বাধার পর কৃষকরা সেখানেই রাস্তার উপর অবস্থান শুরু করেন। রাতভর তাঁরা রাস্তার ধারে শিবির গড়ে থাকেন, নিজেরাই রান্না করে খাবারের ব্যবস্থা করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই তাঁরা এসেছেন এবং অন্তত সাত দিনের রসদ সঙ্গে রয়েছে।
আন্দোলনকারী কৃষক দীপক জাট (Deepak Jat) সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু প্রশাসন বারবার বাধা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করেছে। তাঁর কথায়, সরকার যদি এক মাস সময় নেয়, তাহলেও কৃষকরা এক মাস এই সড়কেই অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
কৃষকদের অন্যতম প্রধান দাবি, মুগ ফসলের সম্পূর্ণ সরকারি ক্রয় MSP-তে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সার বিতরণে চালু হওয়া ই-টোকেন ব্যবস্থাকে হয় কার্যকর করতে হবে, নয়তো পুরনো পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
আরেক আন্দোলনকারী সন্দীপ গৌর (Sandeep Gaur) অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, কৃষকদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করে তুলতেই প্রশাসন বারবার বাধা দিচ্ছে। যদিও তাঁদের উদ্দেশ্য কোনও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা নয়, বরং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা।
এদিকে আন্দোলনের জেরে ভোপাল-নর্মদাপুরম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বুধবার ভোপালের কয়েকটি স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যানজটের আশঙ্কা বেশি, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প রাস্তার নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কৃষক প্রতিনিধিদের একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। ফলে আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছেন না কৃষকরা। তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট—সরকার লিখিতভাবে দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ভোপালের আন্দোলন মঞ্চ ছাড়বেন না।



