‘জ্ঞানেশ চোর কুমার কোথায়?’ ‘ক্রিমিনাল’ বলে ফের তোপ মহুয়ার, ‘দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত গুহায় থাকুন’

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যেই অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ফের বিস্ফোরক আক্রমণ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উত্তরপ্রদেশের দুই যুব ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি স্থগিত করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে পোস্ট করেছেন মহুয়া। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ‘গুহায়’ থাকা উচিত।

এর আগে শুক্রবারও জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে এক্স-এ পোস্ট করেছিলেন মহুয়া। সেখানে তাঁর কটাক্ষ ছিল, “জ্ঞানেশ চোর কুমার কোথায়?” এবার দ্বিতীয় পোস্টে তিনি নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচি স্থগিতের খবরটি শেয়ার করে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

মহুয়া লিখেছেন, “Please postpone his leaving the house everyday. This criminal should stay in a cave till we convict him.” অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য—প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর কর্মসূচিও স্থগিত করা হোক এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির ‘গুহায়’ থাকা উচিত।
[‘সাধারণ অভিযুক্তের মতো’ বিচারের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার সংক্রান্ত সব খবর – এখানে দেখুন]

এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে সিইসি-কে ঘিরে চলা সাম্প্রতিক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে SIR বা Special Intensive Revision-এর সময় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এই রিপোর্টের পর আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই সিইসি-র তরফে SIR-সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত, নির্দেশিকা এবং ভোটার ডেটাবেস ও সফটওয়্যারে পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তগুলিকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণার পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমার-সহ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং SIR-এ ভোটার বাদ যাওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবিও করা হয়েছে।

আবেদনে বিশেষভাবে ২০২৩ সালের Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners Act-এর Section 18-এর উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীর যুক্তি, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সেই আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিই মামলার অন্যতম প্রশ্ন।

তবে এই অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন। জ্ঞানেশ কুমারকে কোনও আদালত দোষী সাব্যস্ত করেনি। নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও অভিযোগের সঙ্গে এক নয়। কমিশন জানিয়েছে, SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতামত বা আপত্তি নথিভুক্ত হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে CEC-এর উত্তরপ্রদেশ সফরের কর্মসূচি স্থগিতের খবর। নির্বাচন কমিশনের তরফে জ্ঞানেশ কুমারের মিরাট এবং বারাণসীর দুটি যুব ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিরাটের অনুষ্ঠানটি ২৫ সেপ্টেম্বর এবং বারাণসীর অনুষ্ঠানটি ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল।

মিরাটে Electoral Literacy Clubs-এর আঞ্চলিক সম্মেলনে এবং বারাণসীতে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে জ্ঞানেশ কুমারের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। দুটি কর্মসূচিই আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

এই কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই মহুয়া নতুন পোস্ট করেন। ফলে চলতি বিতর্কের মধ্যে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, কর্মসূচি স্থগিতের সঙ্গে SIR-কে ঘিরে চলা বিতর্কের কোনও সম্পর্ক নেই। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত ২১ সেপ্টেম্বরই নেওয়া হয়েছিল। ভেন্যু, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সময়সূচি, স্থানীয় পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে এই ধরনের কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের আক্রমণ থামছে না। সিইসি-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং নিজের করা অভিযোগের প্রসঙ্গের পাশাপাশি এখন নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচি স্থগিতের ঘটনাকেও তিনি রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন।

সব মিলিয়ে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এখন একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মামলা, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ—এই তিন স্তরে পৌঁছেছে। মহুয়ার সর্বশেষ পোস্ট সেই রাজনৈতিক চাপের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল। তবে কর্মসূচি স্থগিতের সঙ্গে আইনি বিতর্কের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যই আলাদা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন