পুজোর মুখে ফের কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য। বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও নিউ আলিপুরের একাধিক ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে খবর। বিদেশি মুদ্রা বিনিময় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরে এই অভিযান বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। বালিগঞ্জ ও নিউ আলিপুরের যে ঠিকানাগুলিতে অভিযান চলছে, সেগুলি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত নথিপত্র।
প্রাথমিক ভাবে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ED। বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন এবং সেই অর্থের গতিপথ সম্পর্কেও তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে অভিযানে এখনও পর্যন্ত কী উদ্ধার হয়েছে বা কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
তদন্তের পরিধি শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীদের কাছে গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা আর্থিক লেনদেনের সূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও কলকাতায় বড়সড় ED অভিযান হয়েছিল। ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতা, ইন্দোর এবং জয়পুরে মোট ২০টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই অভিযান ছিল Amrit Group-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তের অংশ। ED জানিয়েছিল, ওই অভিযানে নগদ, বিদেশি মুদ্রা, ব্যাঙ্ক ব্যালান্স এবং অন্যান্য সম্পত্তি-সহ প্রায় ২.৭৫ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
তারও আগে ১১ সেপ্টেম্বর SREI Group-এর ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় কলকাতার ED অভিযান চালিয়েছিল। ARSS Group ও AMR/AMRL Group-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশির পর প্রায় ৬.৩৫ কোটি টাকার সম্পদ ও মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার কথা জানিয়েছিল ED। এর মধ্যে ব্যাঙ্ক ব্যালান্স, ডিম্যাট ও সিকিউরিটিজ, নগদ এবং গয়না ছিল।
ফলে সেপ্টেম্বর জুড়েই কলকাতায় ED-এর একের পর এক অভিযান নজর কেড়েছে। তবে বুধবারের বালিগঞ্জ ও নিউ আলিপুরের তল্লাশি কোন নির্দিষ্ট মামলার সঙ্গে যুক্ত, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেনই আপাতত তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তল্লাশি শেষ হওয়ার পর ED-এর তরফে কোনও প্রেস রিলিজ বা সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হলে অভিযানের আসল পরিধি, মামলার সূত্র এবং কী কী নথি বা সম্পদ উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। আপাতত দক্ষিণ কলকাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সকাল থেকে চলা ED অভিযান ঘিরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



