কলকাতা: বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Dhirendra Shastri) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের জেরে এবার কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ বিধানসভা থেকেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ নিয়ে সরব হয়ে সাধু-সন্তদের অপমানের অভিযোগেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) একদিনের বিশেষ অধিবেশনে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে ভবানীপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু।
বিধানসভা থেকেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে শুভেন্দুর নির্দেশ, ভবানীপুর থানার সামনে যাঁরা বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় সাধু-সন্তদের নিয়ে এই ধরনের প্রতিবাদ মেনে নেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে।”
সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় একটি অনুষ্ঠানে এসে আমিষভোজী বাঙালিদের নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। তাঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আপত্তি ওঠে। সেই সূত্রেই দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের নেতারা ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান।
কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ ছিল, বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য সমাজে ধর্মীয় বিভাজন ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই থানার সামনে তাঁর ছবি পোড়ানো হয় বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এবার গ্রেফতারির নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু।
বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, লিলুয়ায় এসে ওই সাধু দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, অখণ্ড ভারত এবং ভারতীয় ঐতিহ্য-সংস্কৃতির কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেন, আবার নাও পারেন—কিন্তু সেই কারণে তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার প্রতিবাদী কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়, এমনই অবস্থান নেন শুভেন্দু।
এদিন বক্তব্যে গেরুয়া পোশাক ও সাধু-সন্ত সমাজকে অপমানের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ নিয়ে আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক শক্তির হিসাব টেনে বিধানসভায় নিজের দলের বিধায়ক সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।
তবে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি এদিনের বিশেষ অধিবেশনের মূল বিষয় ছিল উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। প্রস্তাবিত বিলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের বদলির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের যুক্তি, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ভিত্তিতে বদলি নীতি কার্যকর হয়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি।
সরকারের আরও বক্তব্য, এই বদলি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক এবং শিক্ষাগত পরিকাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনা যাবে। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন একাধিক অধ্যাপক সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের বদলি ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ফলে একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে প্রতিবাদে গ্রেফতারির নির্দেশ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বদলি নীতি চালুর প্রস্তাব—দুই ভিন্ন ইস্যুতে বৃহস্পতিবারের বিধানসভা অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



