দুর্গাপুজো ২০২৬ নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো কমিটিগুলির আর্থিক সুবিধা থেকে শুরু করে ডিজে, কার্নিভাল, মদ বিক্রি এবং রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজো কমিটিগুলির জন্য কী কী ঘোষণা?
১. এক লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান
প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলিকে এ বছর এক লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বড় বাজেটের এবং আর্থিক ভাবে সক্ষম পুজো কমিটিগুলিকে এই সাহায্য না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
👉 দুর্গাপুজোয় ১ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান, বড় বাজেটের পুজো কমিটিকে শুভেন্দুর বার্তা
২. বিদ্যুতের জন্য কোনও খরচ নয়
কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে এ বার বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এবং সিইএসসি-র সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছে।
৩. দমকলের ছাড়পত্রেও টাকা লাগবে না
পুজোর মণ্ডপের জন্য প্রয়োজনীয় দমকলের ছাড়পত্র নিতে কোনও টাকা দিতে হবে না পুজো কমিটিগুলিকে। ফলে পুজোর প্রস্তুতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খরচ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি মিলবে।
৪. পুজোয় ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
পুজোর সময় রাজ্যের কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না। শুধু পুজোর দিনগুলিই নয়, বিসর্জনের সময়ও ডিজে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৫. এ বার কার্নিভাল হবে না
ডিজের পাশাপাশি কার্নিভাল নিয়েও কড়া সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এ বার পুজোকে কেন্দ্র করে কোনও কার্নিভাল হবে না।
৬. অষ্টমীতে মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ
মহাষ্টমীর দিন রাজ্যের মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে পানশালাতেও মদ বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
👉 পুজোয় ডিজে বাজানো যাবে না, অষ্টমীতে মদ বন্ধ! কার্নিভাল নিয়েও কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর
৭. রাস্তা আটকে পুজো নয়
পুজোর কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় সড়ক আটকে পুজো করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। কলকাতার কয়েকটি নির্দিষ্ট রাস্তা নিয়েও নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
৮. বড় বাজেটের পুজোকে অনুদান না নেওয়ার আবেদন
যেসব পুজো কমিটি আর্থিক ভাবে সক্ষম এবং বড় বাজেটে পুজো করে, তাদের সরকারি সাহায্য না নেওয়ার আবেদন করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, যেসব কমিটির সত্যিই আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, সরকারি সাহায্য তাদেরই কাজে আসা উচিত।
৯. পূর্বতন সরকারের অনুদান নীতি নিয়ে কটাক্ষ
সরকারি অনুদানের প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুদানের পরিমাণ কীভাবে বেড়েছিল, তা উল্লেখ করে আগের মুখ্যমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেন তিনি। এই অংশটি অবশ্য শুভেন্দুর বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।
সব মিলিয়ে কী বদলাচ্ছে?
২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় পুজো কমিটিগুলির জন্য একদিকে থাকছে আর্থিক স্বস্তি—এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং দমকলের ছাড়পত্রে কোনও খরচ নেই। অন্যদিকে উৎসব পরিচালনায় থাকছে একাধিক বিধিনিষেধ—ডিজে ও কার্নিভাল বন্ধ, অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ এবং রাস্তা ব্যবহারে কড়া নির্দেশ।
অর্থাৎ সরকারের বার্তা মোটের উপর স্পষ্ট—পুজোর আয়োজনে সাহায্য থাকবে, তবে নিয়মও মানতে হবে। এখন দেখার, ঘোষিত এই সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হয় এবং পুজো কমিটিগুলির ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ কী দাঁড়ায়।



