ভাতার পুরনো ওয়েটিং লিস্ট বাতিল, ফের আবেদন করতে হবে! বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পুজোর আগে বার্ধক্য, স্বামীহীনা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হল। পুরনো ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে জনকল্যাণ শিবিরে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুজোর মুখে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বড় ঘোষণা। বার্ধক্য ভাতা, স্বামীহীনা ভাতা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা মাসে ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১,৫০০ টাকা হল। একই সঙ্গে আগের সরকারের আমলের সমস্ত ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো তালিকায় থাকা আবেদনকারীদের এবার জনকল্যাণ শিবিরে নতুন করে আবেদন করতে হবে।

সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগস্ট মাসের বেনিফিট থেকেই বর্ধিত ভাতার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। অর্থাৎ এত দিন যাঁরা মাসে ১ হাজার টাকা করে পেতেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে এবার থেকে ঢুকবে ১,৫০০ টাকা। সরকারের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা আরও জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারগুলির আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব, রাজস্ব লিকেজ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুভেন্দু বলেন, পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্য যুক্ত হতে শুরু করেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় অর্থ আসাও শুরু হয়েছে। গতবারের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপভোক্তা যাচাইয়ের উপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনও ভাবেই যেন ভুয়ো উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরকারি ভাতার টাকা না যায়। সরকারের লক্ষ্য, যাঁরা প্রকৃত অর্থে যোগ্য, তাঁদের কাছেই যেন সরকারি সুবিধা পৌঁছয়।

বার্ধক্য ভাতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বয়স বাড়িয়ে দেখানো বা ভুয়ো জন্মের শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকে বার্ধক্য ভাতার সুবিধা নিচ্ছেন। একই ভাবে স্বামীহীনা ভাতার ক্ষেত্রেও অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

চন্দ্রকোণার এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ব্যক্তি পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও স্বামীহীনা ভাতা নিচ্ছিলেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। কেউ অন্যায় ভাবে ভাতা নিয়ে থাকলে স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

এ দিনের ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আগের সরকারের আমলের সমস্ত ভাতার ওয়েটিং লিস্ট বাতিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরনো তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের আর সেই তালিকা ধরে ভাতা দেওয়া হবে না। তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে এবং যাচাইয়ের পর যোগ্যতা অনুযায়ী সুবিধা দেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে যাঁরা ইতিমধ্যে নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের আবেদন যাচাই করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতেও যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ভেরিফিকেশন করে সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আগামী দিনে নতুন করে উপভোক্তাদের ওয়েটিং লিস্ট তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামপঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে দু’দিনের জনকল্যাণ শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য ভাতার অপেক্ষায় থাকা এবং বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত ব্যক্তিরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

স্বামীহীনা ভাতা নিয়ে আরও একটি পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা বর্তমানে এই ভাতা পান এবং তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁরা চাইলে স্বামীহীনা ভাতা ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসতে পারেন। তাঁর দাবি, সেক্ষেত্রে মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অর্থাৎ একদিকে তিন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ল, অন্যদিকে পুরনো ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে শুরু হচ্ছে নতুন করে আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন