এশিয়া কাপের (Asia Cup) প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় ভারতের। থাইল্যান্ডকে মাত্র ৬৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৯৪ রানে ম্যাচ জিতেছে হরমনপ্রীত কৌরদের দল। এই জয়ের নেপথ্যে বল হাতে দুর্দান্ত ভূমিকা নিয়েছেন দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma)। মাত্র ১.১ ওভারে একটিও রান না দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির একক মালিক হয়েছেন তিনি। একই ম্যাচে রান কম করেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় নজির গড়েছেন স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana)।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ১৫৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি। জবাবে দীপ্তির ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে যায় থাইল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপ। মাত্র ৬৫ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করে ভারত।
দীপ্তির বোলিংয়ের পরিসংখ্যানই ম্যাচের ছবিটা পরিষ্কার করে দেয়—১.১ ওভার, ১ মেডেন, ০ রান এবং ৩ উইকেট। নবম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই নাওমি হ্যামিল্টনকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। দুই বল পর নান্নাফাত চাইহানের ক্যাচ ওঠে শর্ট মিডউইকেটে। প্রথম ওভারেই ডাবল উইকেট মেডেন তুলে নিয়ে থাইল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।
দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই নান্নাপাত কনচারোএনকাইকে ফেরান দীপ্তি। ৪৮ বলে ৪১ রান করে থাইল্যান্ডের ইনিংসকে কিছুটা ভরসা দিচ্ছিলেন তিনি। তবে ঋচা ঘোষের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে সেই প্রতিরোধও শেষ হয়। আর ওই উইকেটের সঙ্গেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দীপ্তির উইকেটসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৭১-এ।
এই ম্যাচের আগে থাইল্যান্ডের থিপাচা পুথাওয়ংয়ের সঙ্গে যুগ্মভাবে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন দীপ্তি। একটি উইকেট পেলেই এককভাবে শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত তিনটি উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, নিজের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ১৫০তম ম্যাচেই এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না দীপ্তি। ম্যাচের পর তাঁর বক্তব্য, পরের ম্যাচে কে খেলবেন বা ভবিষ্যতে কে রেকর্ড ভেঙে দেবেন, তা নিয়ে চিন্তা না করে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করাই তাঁর লক্ষ্য। দলের প্রয়োজনে, বিশেষ করে বোলিং বিভাগকে কীভাবে আরও সাহায্য করা যায়, সেটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এশিয়া কাপে এমন জয় দিয়ে শুরু করাকে অবশ্যই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দীপ্তি। তাঁর মতে, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং একটা গতি তৈরি করে। এখন সেই গতি পরের ম্যাচগুলিতেও ধরে রাখাই ভারতের লক্ষ্য।
একই ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও রেকর্ড গড়েছেন স্মৃতি মন্ধানা। ওপেন করতে নেমে শুরুটা ছিল ঝোড়ো। চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে মাত্র ১০ বলে ১৯ রান করেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। এরপর রান আউট হয়ে ফিরতে হলেও ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারিটিই তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে তুলে দেয়।
মহিলাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন স্মৃতি। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা সুজি বেটসকে পিছনে ফেলেছেন তিনি। থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯ রান যোগ করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্মৃতির মোট রান দাঁড়িয়েছে ১০,৭৫৬। সুজি বেটসের সংগ্রহ ১০,৭৪০ রান।
এই তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট রান ১০,৮৬৮। অর্থাৎ মিতালির রেকর্ড ছুঁতে নয়, তাঁকে টপকাতে স্মৃতির প্রয়োজন আর মাত্র ১১৩ রান। এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচেই তাই ভারতের জয় যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই দীপ্তি ও স্মৃতির ব্যক্তিগত নজিরও টুর্নামেন্টের শুরুতেই বাড়তি আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে।



