কলকাতা লিগে (Calcutta Football League) বড় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল ভবানীপুর ও ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শ্যামল বেসরার গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্রুত ম্যাচে ফেরে লাল-হলুদ। ৫২ মিনিটে অনন্তু এনএসের দুরন্ত বাঁ-পায়ের শটে সমতা ফেরানোর পর জয়ের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ স্কোরলাইনেই ম্যাচ শেষ হয়।
গত সপ্তাহেই মোহনবাগানকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল ভবানীপুর। তার এক সপ্তাহ পর আরেক প্রধান ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও রঞ্জন চৌধুরীর দল বুঝিয়ে দিল, এবারের কলকাতা লিগে তাদের হালকা ভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে দুরন্ত ছন্দে থাকা ভবানীপুর এদিনও প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলও ম্যাচের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল। লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাল-হলুদ এই ম্যাচ জিতলে শীর্ষে থাকা ভবানীপুরের সমান পয়েন্টে পৌঁছে যেত। ফলে ম্যাচটি দুই দলের কাছেই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই হিসাব মেলাতে পারলেন না বিনো জর্জের ছেলেরা।
প্রথমার্ধে দুই দলই সমানে সমানে লড়াই করেছে। ইস্টবেঙ্গলের ডান প্রান্তে বিজয় মুর্মুর গতিশীলতা নজর কেড়েছে। ভবানীপুরের হয়ে সাহিল হরিজন এবং জিতেন মুর্মুও বারবার লাল-হলুদ রক্ষণকে চাপে ফেলেছেন। জিতেন শুধু আক্রমণেই নয়, অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন সক্রিয়।
তবে দুই দলের আক্রমণেই শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাব দেখা যায়। ইস্টবেঙ্গলও কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু তা থেকে গোল আসেনি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র এক মিনিটের মাথায় ভবানীপুরকে এগিয়ে দেন শ্যামল বেসরা। ২১ বছর বয়সি ফুটবলারের গোলেই চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত আক্রমণের গতি বাড়ায় লাল-হলুদ।
মাত্র তিন মিনিট পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক থেকে বিজয় মুর্মুর ক্রস সতীর্থের মাথায় পৌঁছলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে।
৫২ মিনিটে অনন্তু এনএসের বাঁ-পায়ের দুরন্ত বাঁকানো শট জালে জড়িয়ে যায়। অসাধারণ সেই ফিনিশিংয়ে ১-১ করে ম্যাচে ফেরে লাল-হলুদ। এরপর জয়ের জন্য একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুলতে শুরু করে তারা।
৭১ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত অনন্তুর। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া শক্তিশালী শট ভবানীপুরের গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। বল জালে ঢুকলে সেটিই হয়তো ম্যাচের সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকত।
শেষ দিকে জয়ের সুযোগ আরও দু’বার এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ৮০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন সঞ্জীব ঘোষ। এরপর ৮৯ মিনিটে গোলের সামনে পৌঁছেও বল তিনকাঠির মধ্যে রাখতে পারেননি রবি হাঁসদা। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল করে নায়ক হওয়া রবির পা থেকে এবার গোল এলে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে একই রকম নাটকীয় জয় ফিরত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি। ভবানীপুরও শেষ বাঁশি পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণ সামলে রাখে। ফলে টানা ছয় ম্যাচ জয়ের সুযোগ হারালেও ইস্টবেঙ্গলকে তিন পয়েন্ট নিতে দিল না তারা। ১-১ ড্রয়ে দু’দলই এক পয়েন্ট করে পেল, আর শীর্ষে ওঠার বড় সুযোগ হাতছাড়া হল লাল-হলুদের।



