পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটালেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Deepak Barman)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নীল-সাদা রঙের প্রতি সরকারের কোনও আপত্তি নেই। ফলে শুধুমাত্র রঙের কারণে স্কুল ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর বক্তব্যে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে বদল এসেছে। এর মধ্যে সরকারি ভবনের রং, বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচিতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মের রং নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়।
কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নীল-সাদা রং নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। অর্থাৎ ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক রঙের প্রশ্নে নয়, বরং নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিবেচিত হবে।
তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, স্কুল ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন নিয়ে যে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল, তার অনেকটাই ভিত্তিহীন।
কেন তৈরি হয়েছিল বিতর্ক?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় সরকারি স্কুলগুলিতে নীল-সাদা ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছিল। সেই পোশাকে ‘বিশ্ববাংলা’-র লোগোও ব্যবহার করা হতো।
সরকার পরিবর্তনের পর ইউনিফর্ম থেকে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই নতুন করে ইউনিফর্মের রং বদলানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে রাজ্যের বেশ কিছু সরকারি ভবন ও প্রশাসনিক কার্যালয়ের রঙে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হওয়ায়, একই ধরনের পরিবর্তন স্কুল ইউনিফর্মেও হতে পারে বলে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল।
নতুন ইউনিফর্ম কবে?
শিক্ষামন্ত্রী এদিন নতুন ইউনিফর্মের নকশা, রং বা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কোনও ঘোষণা করেননি।
তাই বর্তমানে সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, নীল-সাদা রং নিষিদ্ধ বা বাতিল করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে ইউনিফর্ম সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন হলে তা শিক্ষা দফতরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকার মাধ্যমেই জানানো হবে।



