ইংল্যান্ডের কাছে লজ্জার হোয়াইটওয়াশ! একের পর এক রেকর্ড ভাঙল টিম ইন্ডিয়া, তবু শ্রেয়সের দাবি— ‘শিক্ষা নিচ্ছি’

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হার ভারতের। জস বাটলারের বিধ্বংসী ইনিংস, একাধিক লজ্জার রেকর্ড এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের জয়হীন অধ্যায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে টিম ইন্ডিয়া।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় ক্রিকেটে দুঃসময়ের ছবি আরও স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর বাকি চারটিতেই হেরে কার্যত হোয়াইটওয়াশ হল টিম ইন্ডিয়া। শেষ সাতটি টি-২০ ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই হার, আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে একাধিক অস্বস্তিকর রেকর্ড। সব মিলিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শনিবার সিরিজের শেষ ম্যাচে সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিল ভারত। কিন্তু শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের হাতে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৭ রান তোলে স্বাগতিকরা। জস বাটলার ১৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, অন্যদিকে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ব্যাট থেকে আসে ৯৫ রান।

এই ২৫৭ রান ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। শুধু তাই নয়, ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে মোট ১৭টি ছক্কা হাঁকায় ইংল্যান্ড, যা ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে জস বাটলারের ১৩১ রানও ভারতের বিপক্ষে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে নতুন নজির গড়েছে।

২৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ভারতের ব্যাটিং। কোনও সময়ই মনে হয়নি ম্যাচে ফেরার মতো লড়াই করছে সফরকারীরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। ঈশান কিষানের ৫৬ এবং তিলক বর্মার ৫৩ রান ছাড়া অন্য কোনও ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ফলে ৫৬ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় ভারতকে।

এই পরাজয়ের সঙ্গে ভারতের ঝুলিতে যোগ হয়েছে একাধিক নেতিবাচক রেকর্ড। ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০১০ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর এবারই প্রথম কোনও টি-২০ সিরিজে চারটি ম্যাচ হারল ভারত। পাশাপাশি ২০১৩-১৪ মরশুমের পর এই প্রথম সাদা বলের ক্রিকেটে পাঁচ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়ল ভারতীয় দল।

অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের শুরুটাও অত্যন্ত হতাশাজনক। নেতৃত্ব নেওয়ার পর টানা সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন নজির আর কোনও অধিনায়কের নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরিখেও জয়হীন প্রথম সাত ম্যাচের তালিকায় নাম উঠল শ্রেয়সের।

তবে এত বড় ব্যর্থতার পরও আশাবাদী থাকার বার্তা দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে শ্রেয়স বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। কঠিন অবস্থায় কীভাবে খেলতে হয় এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, সেটা বুঝছি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আরও দ্রুত শেখার প্রয়োজন রয়েছে।”

তবে শুধু আত্মসমালোচনায় পরিস্থিতি বদলাবে না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ। টানা ব্যর্থতার পর আগামী সিরিজে টিম ইন্ডিয়া কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন