ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যুর মিছিল থামার নাম নেই। সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ জুনের জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪,১১৮-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬,৭৪০ জন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বিপর্যস্ত।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২, যার উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে। প্রথম ধাক্কার রেশ কাটার আগেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে শতাধিক বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবার এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
এই মানবিক বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক মহলও ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য বিশেষ দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ ব্যবস্থার জন্য ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার জন্য ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাঁদের মতে, ভেনেজুয়েলার উপর দীর্ঘদিন ধরে জারি থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে বিপর্যয়-পরবর্তী পুনর্গঠন ও মানবিক সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।



