ডিজে মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহে আপত্তি, কলকাতা হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন আবেদন

সিআইডির আবেদনে আদালতের অনুমতির পর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ তারিখ মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডিজে মন্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় ফের আইনি লড়াইয়ে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বক্তব্য যে তাঁরই, তা অস্বীকার না করা সত্ত্বেও কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নই আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৯ তারিখ এই মামলার শুনানি হতে পারে। আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার আগেই সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন আবেদন করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে একটি জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সভায় তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই বক্তব্যের একটি অংশে ‘ডিজে বাজবে’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়।

এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রথমে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাগুইআটির এক বাসিন্দা। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি-র হাতে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি ভবানী ভবনে ডেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেন। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালীন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অভিষেকের আত্মীয়ের বাড়িতেও যান তদন্তকারীরা। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয় বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ডিজিটাল প্রচার ও প্রকাশনা সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এরপর আদালতের কাছে আবেদন করে সিআইডি জানায়, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুরও করে। তবে এবার সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।

অভিষেকের বক্তব্য, তিনি কখনও দাবি করেননি যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে শোনা কণ্ঠস্বর তাঁর নয়। ফলে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও আইনজীবী মহলের। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর তদন্তের পরবর্তী ধাপ অনেকটাই নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন