পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অন্দরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি— ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান ঠিক কোথায়? তিনি কি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন, নাকি বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এর দিকে ঝুঁকছেন? এই জল্পনার মধ্যেই বিধানসভায় মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার বিধানসভায় ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা এবং চণ্ডীতলার তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দকার শপথ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। শপথগ্রহণ পর্বের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেন ঋতব্রত।
‘নব তৃণমূল ব্লক’-এ আরও বিধায়ক যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, এখনই নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নতুন কোনও সমর্থন এলে তা সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার তাঁদের ব্লকের সমর্থক কি না, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, স্বাতী তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়ক এবং সেই কারণেই তাঁদের উপস্থিতি ছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁদের ব্লকের পক্ষেই বিধানসভার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যের সমর্থন রয়েছে এবং সেই সূত্রেই এটি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে প্রশ্ন। তিনি ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এ যোগ দিয়েছেন কি না বা ভবিষ্যতে যোগ দিতে পারেন কি না জানতে চাইলে ঋতব্রত কোনও ব্যক্তির নাম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর কথায়, তিনি ব্যক্তি নয়, সংখ্যা নিয়েই কথা বলতে চান। অধিবেশন চলাকালীন বাস্তব পরিস্থিতি নিজেই সামনে চলে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে বিধানসভায় এসে সন্দীপন সাহার সঙ্গে ঋতব্রতের কক্ষে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। পরে তাঁর বিধানসভায় অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে তাঁদের আগ্রহ নেই। তবে কল্যাণ যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন, তার অনেকটাই তাঁদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে জল্পনার অবসান এখনও হয়নি। বরং ঋতব্রতের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে।



