ভোট যত এগোচ্ছে, ততই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির আশঙ্কা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এবার বড় সিদ্ধান্ত—আরও ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত। কোথায় কত বাহিনী যাবে, তার খুঁটিনাটি তালিকাও তৈরি হয়ে গিয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, মোট ২৪০০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অতিরিক্ত ৩০০ কোম্পানি রাজ্যে পৌঁছবে। ইতিমধ্যেই জেলা থেকে শহর—বিভিন্ন জায়গায় রুটমার্চ শুরু হয়েছে, যা ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই নতুন বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংবেদনশীল জেলাগুলিকে। তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে—এখানে মোতায়েন হবে ২১ কোম্পানি। পাশাপাশি কোচবিহার (২৩), মালদহ (১৫), পশ্চিম মেদিনীপুর (১৩), মুর্শিদাবাদ (১৩) এবং কলকাতা (১১)–সহ একাধিক জেলায় উল্লেখযোগ্য বাহিনী রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু পুলিশ জেলায় আপাতত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে না। এই তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া—যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই এলাকাগুলিকে তুলনামূলকভাবে কম স্পর্শকাতর বলে বিবেচনা করেছে কমিশন।
জেলাভিত্তিক বাহিনী মোতায়েন (সংক্ষিপ্ত চিত্র)
- সর্বোচ্চ: কোচবিহার (২৩), পূর্ব মেদিনীপুর (২১)
- উচ্চ মোতায়েন: মালদহ (১৫), মুর্শিদাবাদ (১৩), পশ্চিম মেদিনীপুর (১৩)
- মাঝারি: কলকাতা (১১), বারাসত (১১), বসিরহাট (১১), আসানসোল-দুর্গাপুর (১১)
- শূন্য মোতায়েন: দার্জিলিং, কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া
এছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় ৩ থেকে ১২ কোম্পানির মধ্যে বাহিনী রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন শুধু নিরাপত্তার জন্যই নয়—বরং ভোট প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু রাখতে কমিশনের কৌশলগত পদক্ষেপ। বিশেষ করে অতীত অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার নিরিখে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে নজিরবিহীনভাবে জোরদার হচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই কড়া প্রস্তুতি কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের পরিবেশে।



