পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে নতুন করে সামনে এল কূটনৈতিক শক্তির পরীক্ষা। আমেরিকা-ইজ়রায়েল ও ইরানের সংঘাতে যখন মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান, তখন ভারতের অনুপস্থিতি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। এই বিতর্কের মাঝেই পরিষ্কার অবস্থান জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর— “ভারত কোনও দালাল রাষ্ট্র নয়।”
পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারলে তা তাদের জন্য গর্বের হবে। পাশাপাশি পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এমনকি, মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির খসড়াও তেহরানে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ভারত কেন এই ভূমিকায় নেই? সংসদে সর্বদলীয় বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয় বিরোধী শিবির। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ ও নির্মলা সীতারামন-সহ কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানান, “আমরা কোনও ব্রোকার বা দালাল রাষ্ট্র নই। ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আলাদা— আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাই, কিন্তু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা আমাদের নীতির অংশ নয়।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল, যেখানে ‘মধ্যস্থতা’ নয়, বরং কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও পাকিস্তান নিজেদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরছে, ইরান কিন্তু প্রকাশ্যে কোনও আলোচনার বিষয় অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার জল্পনা ভিত্তিহীন। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে তারা ‘কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেই অভিহিত করেছে।
প্রসঙ্গত, ওমানে আলোচনার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। সেই হামলায় মৃত্যু হয় তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র। এরপর থেকেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সক্রিয়তা এবং ভারতের সংযত অবস্থান— এই দুই কৌশলের মধ্যে পার্থক্যই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।



