ভোটের লড়াই যত ঘনাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বামফ্রন্টের কৌশল। দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ফের বার্তা দিল বাম শিবির—পুরনো ও নতুন মুখের মিশেলে ভোটের ময়দানে নামতে চাইছে তারা। এই দফায় মোট ৩২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে সিংহভাগই সিপিএমের দখলে।
সবচেয়ে নজরকাড়া সিদ্ধান্ত জয়নগর কেন্দ্রে—সেখানে সিপিএম প্রার্থী করা হয়েছে অধীর প্রামাণিককে। টালিগঞ্জে প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস এবং ভবানীপুরে শ্রীজীব বিশ্বাসকে টিকিট দিয়েছে দল। বালিগঞ্জে তরুণ মুখ আফরিন বেগম শিল্পীকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামেরা। চাঁচলে আনোয়ারুল হক, রানিনগরে জামাল হোসেন, বসিরহাট দক্ষিণে আইনুল আরেফিন, ডায়মন্ড হারবারে সমরেন্দ্রনাথ নাইয়া—এই নামগুলি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
কুলতলি, বারুইপুর পশ্চিম, পাঁশকুড়া পূর্ব ও পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, খেজুরি, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর—গ্রামাঞ্চল ও জঙ্গলমহলের একাধিক আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট।
এই তালিকায় সামাজিক সমীকরণের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ৩২ জনের মধ্যে ১১ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী এবং ৩ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। বাম নেতৃত্বের মতে, এই ভারসাম্যই ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দলগত বণ্টনের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে—৩২ আসনের মধ্যে ১টি আসনে আরএসপি, ৩টি আসনে সিপিআই এবং বাকি অধিকাংশ আসনে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রাম, গোপীবল্লভপুর ও আসানসোল উত্তরে সিপিআই প্রার্থী রয়েছে, আর কালচিনিতে প্রার্থী দিয়েছে আরএসপি।
এর আগে প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বামফ্রন্ট। ফলে ধাপে ধাপে প্রায় পুরো রাজ্য জুড়েই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পথে এগোচ্ছে তারা।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় তালিকায় বামফ্রন্টের কৌশল স্পষ্ট—তরুণ মুখ, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব এবং সংগঠনের পুরনো ভিত্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ভোটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।
বামফ্রন্টের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা
- কালচিনি: পাসাং শেরপা (RSP)
- করণদিঘি: মহম্মদ সাহাবুদ্দিন
- হবিবপুর: বাসুদেব বর্মন
- চাঁচল: আনোয়ারুল হক
- ভগবানগোলা: মাহমদুল হাসান
- রানিনগর: জামাল হোসেন
- নবগ্রাম: পূর্ণিমা দাস
- জলঙ্গি: ইয়ানুস আলি সরকার
- কৃষ্ণনগর উত্তর: অদ্বৈত বিশ্বাস
- কৃষ্ণগঞ্জ: অর্চনা বিশ্বাস
- কল্যাণী: সবুজ দাস
- বসিরহাট দক্ষিণ: আইনুল আরেফিন (রাজু আহমেদ)
- কুলতলি: রামশঙ্কর হালদার
- জয়নগর: অপূর্ব প্রামাণিক
- বারুইপুর পশ্চিম: লাহেক আলি
- ডায়মন্ড হারবার: সমরেন্দ্রনাথ নাইয়া
- টালিগঞ্জ: পার্থপ্রতিম বিশ্বাস
- মেটিয়াবুরুজ: মনিরুল ইসলাম
- ভবানীপুর: শ্রীজীব বিশ্বাস
- বালিগঞ্জ: আফরিন বেগম শিল্পী
- চাঁপদানি: চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
- জাঙ্গিপাড়া: সুদীপ্ত সরকার
- পুরশুড়া: সন্দীপ কুমার সামন্ত
- পাঁশকুড়া পূর্ব: ইব্রাহিম আলি
- পাঁশকুড়া পশ্চিম: নিরঞ্জন সিহি
- নন্দীগ্রাম: শান্তি গিরি
- খেজুরি: হিমাংশু দাস
- নয়াগ্রাম: পুলিনবিহারী বাস্কে
- গোপীবল্লভপুর: বিকাশ সারেঙ্গি
- মন্তেশ্বর: অনুপম ঘোষ
- আসানসোল উত্তর: অখিলেশ কুমার সিং
- মুরারই: মহম্মদ আলি রেজা মণ্ডল



