বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের ঝড়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল নিয়ে মুখ খুলে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন দেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে কার্যত অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে সাংবিধানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছিল এবং অসাংবিধানিকভাবে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরানোর চেষ্টাও হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই সময়কাল ছিল ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত অস্থির।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বারবার অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁকে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন সাহাবুদ্দিন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইউনূস বিদেশ সফর থেকে ফিরে সংবিধানসম্মত রীতি অনুসরণ না করে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। বঙ্গভবনের প্রেস উইং সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যার ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এমনকি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলিতে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া একাধিক অধ্যাদেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, অনেক অধ্যাদেশের কোনও বাস্তব প্রয়োজন ছিল না এবং সংবিধানের বিধান যথাযথভাবে মানা হয়নি।
একই সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, কঠিন সময়ে বিএনপি নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে কৌতূহল থাকলেও পরে তাঁকে আন্তরিক ব্যক্তি বলে মনে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করেছে।



