ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, ফর্মহীনতা আর সোশাল মিডিয়ার সমালোচনা—সব কিছুকে ছাপিয়ে আবারও ক্রিকেট মাঠেই নিজের উত্তর দিলেন স্মৃতি মন্ধানা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ঝোড়ো ইনিংস খেলে শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলাননি, গড়েছেন মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসও।
ফর্মে ফিরেই ঐতিহাসিক মাইলফলক
কেরলের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্মৃতির এই ইনিংস ছিল প্রত্যাবর্তনের গল্প। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৭ রান। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচেই সেই গণ্ডি পেরিয়ে যান তিনি। এর ফলে মিতালি রাজ, শার্লট এডওয়ার্ডস ও সুজি বেটস-এর পর ইতিহাসের চতুর্থ মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে এই নজির গড়লেন স্মৃতি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—মাত্র ২৮১ ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে তিনি হলেন দ্রুততম মহিলা ক্রিকেটার। এতদিন এই রেকর্ড ছিল মিতালি রাজের, যিনি ২৯১ ইনিংসে ১০ হাজার রান করেছিলেন।
ওপেনিং জুটিতে নতুন রেকর্ড
এই ম্যাচে শেফালি বর্মা-র সঙ্গে ওপেনিংয়ে ১৬২ রানের জুটি গড়ে আরও একটি নজির স্থাপন করেন স্মৃতি। মহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে ভারতের মাটিতে এটি সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের রেকর্ডটিও (১৪৩ রান) ছিল এই স্মৃতি–শেফালি জুটিরই, যা ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে গড়া হয়েছিল।
ইনিংসের খুঁটিনাটি
৩৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর রানের গতি আরও বাড়ান স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৮০ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলেন তিনি। শেফালি করেন ৪৬ বলে ৭৯ রান। পরে রিচা ঘোষ নামেন ঝড় তুলতে—১৬ বলে ৪০ রান। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২২১ রান।
মাঠের বাইরে কঠিন সময়
বিশ্বকাপের পর স্মৃতির ব্যক্তিগত জীবন একাধিক ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেই পারিবারিক অসুস্থতা ও সম্পর্কের ভাঙন তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়। তার উপর সোশাল মিডিয়ায় শরীর নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্রুপ পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
ক্রিকেটেই উত্তর
তবে রবিবারের ইনিংস বুঝিয়ে দিল—সমালোচনার সবচেয়ে শক্ত জবাব আসে পারফরম্যান্সে। সব বাধা পেরিয়ে মাঠে ফিরে স্মৃতি দেখালেন, ক্রিকেটই তাঁর প্রথম পরিচয় এবং সবচেয়ে বড় শক্তি।



