রাস্তায় নেমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা নয়, এবার নিজেদের দফতরের কাজে আরও বেশি মন দেওয়ার পরামর্শ। বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে এমনই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে সরকারি সূত্রের খবর। সূত্রের দাবি, মাঠে ঘুরে কাজ করার পাশাপাশি মন্ত্রীদের দফতরের প্রশাসনিক কাজেও যথেষ্ট সময় দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকেই অগ্নিমিত্রা পালকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পুর পরিষেবা ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে। ফুটপাত দখল, বেআইনি পার্কিং, রাস্তার নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পদক্ষেপ করতে দেখা যায় তাঁকে। এই ধরনের একাধিক ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কেও সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছে। জনসংযোগের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে বুধবারই তাঁর নাম নতুন করে আলোচনায় আসে বিধাননগর বিধানসভা এলাকার একটি ‘বিধায়ক দরবার’-কে কেন্দ্র করে।
মঙ্গলবার দমদম পার্কে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে আচমকাই হাজির হন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। সেখানে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রকাশ্যে বাদানুবাদ হয়। পীযূষের বক্তব্য ও উপস্থিতি ঘিরে সভায় কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরই বুধবার নবান্নের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অগ্নিমিত্রা এবং শারদ্বতকে দফতরের কাজে আরও বেশি ‘ফোকাসড’ হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কথা সামনে এসেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি মূলত সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধু দুই মন্ত্রীর কাজের ধরন নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু বলে সূত্রের খবর। দফতর ধরে ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কর্মী নিয়োগ করে সরকারি পরিষেবা আরও কার্যকর করার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সেই কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী আইনি অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রীদের উদ্দেশে বাজেট বরাদ্দ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ অর্থ ব্যবহার করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বরাদ্দ অর্থ যথাযথ ভাবে ব্যবহার না হলে পরবর্তী বাজেটে অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলেও মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
অর্থাৎ, বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং দফতরভিত্তিক দায়িত্ব পালনের উপরই জোর দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অগ্নিমিত্রা ও শারদ্বতের ক্ষেত্রেও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার পাশাপাশি এবার দফতরের প্রশাসনিক কাজকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হল।



