নজরবন্দি ব্যুরো: ছত্রিশগড়ে শাহ্! কথা বলবেন আহত জওয়ান দের সঙ্গে। ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর মাওবাদী হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে। সিআরপিএফের শীর্ষকর্তা কুলদীপ সিং বলেন, গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল না। তার কথায়, যদি গোয়েন্দা বা জওয়ানদের অভিযানে কোন ব্যার্থতা থাকত তাহলে সিআরপিএফ-এর গুলিতে ২৫-৩০ জন মাওবাদীর মৃত্যু হত না। আজ সোমবার ছত্তিশগড় গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। এবং দেখা করবেন কথা বলবেন আহত জওয়ানদের সঙ্গে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ছত্তিশগড়ে বিজাপুর ও সুকমার মাঝে জঙ্গলে শুরু হয় জওয়ান-মাওবাদী সংঘর্ষ। দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলে সংঘর্ষ।
মাওবাদীরা যে ভাবে সিআরপিএফ বাহিনীর উপর হামলা চালায়, তাতে মনে করা হচ্ছে মাওবাদী শীর্ষ নেত্রী মাধবী হিদমার লুকিয়ে থাকার ভুয়ো খবর ছড়িয়ে ফাঁদে ফেলা হয়েছে জওয়ানদের। কারণ জওয়ানরা ওই এলাকায় পৌছানোর আগেই সেখানে নিজের লক্ষ্য স্থির করে বসেছিল মাওবাদীরা। এই ঘটনায় বেশ কিছু বিষয় দেখে মনে করা হচ্ছে, তবে কি গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণেই ২২ জন জওয়ানকে প্রাণ হারাতে হল? আহত আরও অনেকে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১ জওয়ানের কোন খোঁজ মেলেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল রবিবারই CRPF ডিজি কুলদীপ সিংকে ছত্তিশগড় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মতোই ছত্তিশগড়ে যান CRPF শীর্ষকর্তা।
গোটা পরিস্থিতির উপর নজর দেওয়া হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হবে সমস্ত বিষয়ে। রায়পুরে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে কুলদীপ সিং জানান, মাওবাদীরা তাদের জখম ও মৃত সঙ্গীদের নিয়ে যেতে অন্তত ৩টি ট্রাক্টর ব্যবহার করেছে। সেই কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত আরও অনেকে। কিন্তু কত জন মাওবাদী নিহত হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা এখনই বলা সম্ভব নয়। তার কথায়, যদি গোয়েন্দা বা অভিযানের ব্যর্থতা থাকত তাহলে এত জন মাওবাদী নিহত হত না। সিআরপিএফ শীর্ষকর্তার দাবি, মাওবাদীরা ওই জায়গায় ওঁৎ পেতে ছিল। ৩ দিক থেকে ঘিরে জওয়ানদের উপর হামলা করা হয়েছে। কুলদীপ সিং জানান, শহিদ জওয়ানদের মধ্যে ৭ জন সিআরপিএফ-এর সদস্য রয়েছেন।
ছত্রিশগড়ে শাহ্! কথা বলবেন আহত জওয়ান দের সঙ্গে। জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকলেন শাহ। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল। জানা গিয়েছে, এদিন শহিদ জওয়ানদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগে সেনা ঘাঁটিতে যাবেন শাহ। তার পর বিজাপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। এবং রায়পুর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত ৩১ জন জওয়ানদের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে তার। মাও হামলায় শহিদ জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন, ডিস্ট্রিক রিজার্ভ গার্ড-এর সাব-ইন্সপেক্টর দীপক ভরদ্বাজ, হেড কনস্টেবল রমেশ কুমার জুরি, হেড কনস্টেবল নারায়ণ সোধি, কনস্টেবল রমেশ কোরসা, কনস্টেবল সুভাষ নায়েক, অ্যাসিস্ট্যান্ট কনস্টেবল কিশোর আনদ্রিক, অ্যাসিস্ট্যান্ট কনস্টেবল সানকুরাম সোধি, অ্যাসিস্ট্যান্ট কনস্টেবল ভোসারাম কারতামি।



