নজরবন্দি ব্যুরোঃ উপার্জন বলতে শিক্ষকতায় পাওয়া বেতন, নেই জমি বাড়ি। সুজাতার হলফনামায় উল্লেখ নেই সৌমিত্রর সম্পত্তির। আগামী কাল তৃতীয় দফার নির্বাচন বাংলায়। প্রার্থী তালিকায় একদিকে দীর্ঘ দিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা অন্যদিকে লড়ায়ে নেমেছেন একঝাঁক নতুন মুখ। আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম মুখ হলেন আরামবাগের তৃণমূলের প্রার্থী সুজাতা খাঁ। দাম্পত্য পরিচয়ের দিক থেকে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী তিনি। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর নাগাদ যখন বাংলায় জোর কদমে চলছিল রাজনৈতিক দলবদল, তখনই বিজেপি ছেড়ে পুনরায় তৃণমূলে এসেছিলেন সুজাতা খাঁ। স্বামী এখনও রয়ে গিয়েছেন বিজেপিতেই। এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোট লড়ছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অক্ষয়, সেটে ৪৫ জন পজেটিভ, তড়িঘড়ি বন্ধ শ্যুটিং
লোক সভার নির্বাচনে স্বামী সোউমিত্র খাঁকে নিজের ক্ষমতায় জিতিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল ছেড়ে ২০১৯ এর লোকসভায় সোউমিত্র খাঁ বিশ্নুপুর থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন সেই নির্বাচন। এলাকায় প্রবেশাধিকার ছিলোনা বলে স্ত্রী সুজাতা প্রচার করেছিলেন স্বামীর হয়ে। তবে গত ডিসেম্বরে সুজাতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই সৌমিত্র ডিভর্সের নোটিস পাঠিয়েছিলেন তাঁকে। ২১ এর নির্বাচবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা রেখেছেন সুজাতাতে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামায় সুজাতা জানিয়েছেন তাঁর স্থাবর আস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান। ২০১০ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন সুজাতা। নিজের উপার্জন বলতে সুজাতা শিক্ষকতা সূত্রে পাওয়া বেতনের উল্লেখ করেছেন। ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে তাঁর উপার্জন ছিল মোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৯২০ টাকা। তার আগের আর্থিক বর্ষে তাঁর উপার্জনের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৯০০ টাকা। হাতে মাত্র ৮০০০, নিজের নামে নেই জমি বা বাড়ি, এসবিআই-এর সেভিংস অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত ১ লক্ষ ৬০ হাজার ২৭৪ টাকা। মূলত নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ওই ব্যাঙ্কের আরামবাগ শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট নতুন খুলেছেন সুজাতা।
পিএনবি-র বড়জোড়া শাখায় আছে ৪২ হাজার ৫৪৭ টাকা। একই ব্যাঙ্কের বাঁকুড়া শাখায় পিপিএফ অ্যাকাউন্টে আছে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮২৮ টাকা। পিএনবি-র বড়জোড়া শাখায় আছে ৪২ হাজার ৫৪৭ টাকা। একই ব্যাঙ্কের বাঁকুড়া শাখায় পিপিএফ অ্যাকাউন্টে আছে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮২৮ টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডে সুজাতা বিনিয়োগ করেছেন মোট ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। পোস্ট অফিসের দু’টি অ্যাকাউন্টে আছে ১৫ লক্ষ টাকা।
উপার্জন বলতে শিক্ষকতায় পাওয়া বেতন, নেই জমি বাড়ি। সুজাতার হলফনামায় উল্লেখ নেই সৌমিত্রর সম্পত্তির। নিজের বলতে আছে ২০১৯ সালে কেনা হন্ডা সিটি, কিনেছিলেন ৭ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা দিয়ে। এ ছাড়াও আছে ৫৮ হাজার টাকায় কেনা একটি টিভিএস স্কুটি আছে। যা তাঁর নিত্য সঙ্গী। সোনার গয়না আছে ২০ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৫০ টাকা। হলফ নামায় যা যা খতিয়ান দেখিয়েছেন তা সম্পুর্ন রূপে তাঁর নিজের নামের। স্বামীর সঙ্গে জড়িত কোন কিছুর হিসেব তিনি উল্লেখ করেননি। উল্টে স্বামী বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর সম্পত্তির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলেই জানিয়েছেন।



