নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ‘বারমুডা’ পরতে পরামর্শ দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ! রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসে তত কুকথার রাজনীতির দিকে ঝোঁকেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এই নির্বাচনেও যে তার অন্যথা হবে না তার প্রমান বার বার দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। কুকথার রাজনীতিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের জুরি মেলা ভার। বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করা তাঁর কার্যত অভ্যাস।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রেস্টিজ ফাইটের’ নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারের শেষ বেলায় সভা করবেন অমিত-যোগী
তবে অনেক দিন তিনি বেশ চুপচাপই ছিলেন। নিন্দুকরা বলছিল, শীর্ষনেতৃত্বের নির্দেশেই নাকি মুখ লাগাম পরিয়েছেন তিনি। রাজ্যজুড়ে দাপিয়ে ভোট প্রচার করেছেন। কোনও জনসভাতেই খুব একটা বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়নি তাঁকে। তবে ভোটের আগে ফের স্বহমহিমায় ফিরলেন দিলীপবাবু। বেনজির মন্তব্য করলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান বিধানসভার দলের প্রার্থী পারসি মুর্মুর প্রচারে নামেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি। হাটতলা মোড় থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বারমুডা পরার নিদান দেন তিনি।
আর তাতেই বিতর্ক। বিজেপি সাংসদ বললেন, ‘প্লাস্টার কাটা হয়ে গেল। ফের ব্যান্ডেজ বাধা হয়ে গিয়েছে। আর পা তুলে তুলে সবাইকে দেখাচ্ছে। শাড়ি পড়ে এসে একটা পা ঢাকা। একটা খোলা। এমন শাড়ি পড়তে দেখিনি। যদি পা বের করে রাখেন, তবে শাড়ি কেন বারমুডা পরতে পারেন। তাহলে পরিষ্কার দেখা যায়। কত নাটক দেখব আর।’ এখানেই থামেননি দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের এই নির্বাচনে প্রচারের মূল মন্ত্র, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’। তা নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘দিদি বলছেন আমি একজন মহিলা। আমাকে ভোট ভিক্ষা দিন। আমি বাংলার মেয়ে। বাংলার মেয়ে যা দুর্দশা করেছে, আর কেউ চায় না তাঁকে। এবার মেয়ের হাত থেকে মুক্তি চায়।’ তিনি এও বললেন, ‘মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে বেশি দিন বাপের বাড়িতে থাকলে লোকে খারাপ কথা বলে।’ এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ‘বারমুডা’ পরতে পরামর্শ দিলীপের! তৃণমূল টুইট করে জানায় ‘এইরকম কুরুচিকর মন্তব্য দিলীপ ঘোষ ছাড়া আর কারও থেকে প্রত্যাশিত নয়! একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সম্বন্ধে এইরকম নিন্দনীয় ভাষা প্রয়োগ প্রমাণ করে যে বিজেপি নেতারা মহিলাদের সম্মান করেন না। বাংলার মা-বোনেরা মমতার প্রতি এই অপমানের যোগ্য জবাব দেবে ২ মে।’ মন্তব্য পাল্টা মন্তব্যে নির্বাচনের আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সঙ্গে সঙ্গে মাত্রা ছাড়াচ্ছে কুকথার সীমাও।



