নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত সামসুদ্দিন খান। বঙ্গ রাজনীতিতে নামটা পরিচিত নয়। তবে তাঁর ভাইকে সকলেই চেনে। প্রয়াত ছাত্রনেতা আনিস খানের দাদা সামসুদ্দিন। ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই এবারে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। মঙ্গলবার ভোট গণনা শেষে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: গণনাকেন্দ্রে ঢুকে বিরোধীদের মারধর, অভিনেত্রী বিধায়ক লাভলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর!
পঞ্চায়েত ভোটে হাওড়ার কুশবেড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির ৪১ নম্বর আসনে সিপিএম প্রার্থী করে সামসুদ্দিন খানকে। বাংলার শাসক দল তৃণমূলকে হারিয়ে জয় অর্জন করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বড় ছেলের সমর্থনে দেওয়াল লিখতেও দেখা যায় বাবা সালেম খানকে। পরিবারের তরফে প্রথমেই জানানো হয়েছিল ছোট ভাইয়ের অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করতেই ভোটে নেমেছেন সামসুদ্দিন। কিন্তু আশানুরূপ ফল হয়নি। তৃণমূল প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানেই পরাজিত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, আনিস খানের মামা সিপিএম প্রার্থী সাবির খানও আমতার কুশবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে তৃণমূলের কাছে হেরে গিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গভীর রাতে আনিস খানের বাড়িতে হানা দেয় কয়েকজন পুলিশকর্মী। এরপরই বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ছাত্রনেতার। পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনে পরিবার। আনিসের রহস্যমৃত্যু নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালতের নির্দেশেই কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হয় তাঁর। এই ঘটনার পর একাধিক সিপিএম নেতৃত্বকে আনিসের বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। মহম্মদ সেলিম সহ অনেকেই নিহত ছাত্রনেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

বছর ঘুরলেও রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হয়নি। সেই ক্ষোভ রয়েছে আনিসের পরিবারে। নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে বলা হলেও নিহত ছাত্রনেতার পরিবারের জোরালো দাবি খুন হয়েছে আনিস। সত্য উদঘাটনের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল বাবা সালেম খান।
নিহত ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ভোটের লড়াই, পঞ্চায়েতে পরাজিত আনিসের দাদা




